গণধর্ষণের শিকার কলেজ ছাত্রী, ব্ল্যাকমেল করে টানা ৫ মাস ধরে চলল যৌন নির্যাতন!

প্রেমের ফাঁদে ফেলে গণধর্ষণ এবং তার ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে লাগাতার যৌন নির্যাতনের এক ভয়ংকর ঘটনা সামনে এসেছে মহারাষ্ট্রের থানে জেলার কল্যাণে। এক ১৭ বছর বয়সী কিশোরী তার প্রেমিক এবং তার ৬ বন্ধুর পাশবিক লালসার শিকার হয়েছে। টানা পাঁচ মাস ধরে এই নির্যাতন চলার পর অবশেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ভাইরাল হলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
ভয়ংকর প্রেমের গল্প
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিতা সদ্য কলেজে ভর্তি হয়েছে। গত এপ্রিল মাসে ইনস্টাগ্রামে তার এক তরুণের সঙ্গে আলাপ হয়, যা দ্রুত প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। কিশোরী জানিয়েছে, তার প্রেমিক তার সম্মতি ছাড়াই তাদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করত। এরপর সেই ভিডিওগুলো সে তার ৬ বন্ধুর সঙ্গে শেয়ার করে।
এই ৬ বন্ধু এরপর কিশোরীকে ব্ল্যাকমেল করা শুরু করে। তারা তাকে হুমকি দেয় যে তাদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন না করলে তারা প্রেমিকের সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ ভিডিওগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস করে দেবে। এই হুমকির মুখে পড়ে কিশোরী তাদের যৌন হেনস্থার শিকার হয়। টানা পাঁচ মাস ধরে এই ৭ জন মিলে তাকে গণধর্ষণ করে।
ভিডিও ফাঁস এবং পুলিশের তৎপরতা
সম্প্রতি এই পাশবিক নির্যাতনের ভিডিওগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন। এরপরই তারা কিশোরীকে নিয়ে থানায় হাজির হন এবং গণধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ওই ৭ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের সকলের বয়স ২০ বছরের আশেপাশে। মেডিকেল পরীক্ষায় জানা গেছে, কিশোরীটি গর্ভবতী হয়ে পড়েছিল। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশেও একইরকম ঘটনা!
অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশের কানপুর জেলাতেও একই ধরনের আরেকটি নৃশংস গণধর্ষণের ঘটনা সামনে এসেছে। এখানে একজন নাবালিকা তার প্রেমিক এবং তার দুই বন্ধুর লালসার শিকার হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ২৬ জুলাই নাবালিকা তার ১৯ বছর বয়সী প্রেমিক মহেশের সঙ্গে ছিল। মহেশ তাকে জিনিসপত্র কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর সেখানে মহেশের দুই বন্ধু— একজন ১৫ বছর বয়সী কিশোর এবং আরেকজন ১৯ বছর বয়সী লাকি— এসে উপস্থিত হয়। তারা ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে এবং নাবালিকাকে ব্ল্যাকমেল করে ৭ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অপারগ হলে তারা তিনজন মিলে তাকে গণধর্ষণ করে।
এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই মহেশের দুই বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে। প্রধান অভিযুক্ত মহেশ এখনও পলাতক। পুলিশ তাকে খুঁজে বের করার জন্য তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।