‘সতীপীঠ কালীঘাট’-এ বড় রদবদল! প্রযোজনা সংস্থা বদল নিয়ে উত্তাল টলিপাড়া

টলিপাড়ায় ‘সতীপীঠ কালীঘাট’ ধারাবাহিকটিকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামার নামই নিচ্ছে না। লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন এক চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। শোনা যাচ্ছে, জি বাংলার এই বহুচর্চিত মেগা ধারাবাহিকের প্রযোজনার দায়িত্বে আসতে চলেছে বড়সড় পরিবর্তন। ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর, শুরুতে এই ধারাবাহিকের দায়িত্বে থাকা রয় সিনেওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেড সম্ভবত এই প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়াতে চলেছে। প্রাথমিকভাবে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব প্রযোজনার জল্পনা থাকলেও, বর্তমানে শোনা যাচ্ছে গোটা প্রজেক্টটির দায়িত্ব নিতে পারে রূপা দত্তের মালিকানাধীন ক্যামেলিয়া প্রোডাকশন।

এই সম্ভাব্য পরিবর্তনের সত্যতা যাচাই করতে ক্যামেলিয়া প্রোডাকশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে যে, এখনও পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। তবে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। টেলিপাড়ার অন্দরে এই খবর যখন ছড়াচ্ছে, ঠিক তখনই লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। কয়েকদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেছিলেন, ধারাবাহিকটির মূল কাহিনি রচনার দায়িত্ব তাঁর হলেও, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পারিশ্রমিক পাননি তিনি।

দেবারতির অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে রয় সিনেওয়ার্কসের পক্ষ থেকে তাঁকে যোগাযোগ করে বাংলার ইতিহাস, পুরাণ ও কালীঘাট মন্দিরের ঐতিহ্য নিয়ে একটি বৃহৎ পরিসরের গল্পের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি কাহিনিকার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন এবং আগামী এক বছরের গল্পের রূপরেখা জমা দেন। তাঁর অভিযোগ, চিত্রনাট্য জমা দেওয়ার পর থেকেই প্রযোজক সুব্রত রায়ের পক্ষ থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে প্রাপ্য পারিশ্রমিক হিসেবে তাঁকে একটি পোস্ট ডেটেড চেক দেওয়া হলেও, ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার পর জানা যায় তাতে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। এমনকি সেই চেক জমা না দেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়। লেখিকার স্পষ্ট প্রশ্ন, লিখিত প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার লেখকদের সৃজনশীল অবদান ও শ্রমকে এভাবে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে?

এই বিতর্কের আবহেও ‘সতীপীঠ কালীঘাট’ নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল কমেনি। শোনা যাচ্ছে, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র রাজা বসন্ত রায়ের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে অভিনেতা বিশ্বনাথ বসুকে। কালীঘাটের মন্দির নির্মাণ এবং তার পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটই এই ধারাবাহিকের মূল আকর্ষণ। মা কালীর চরিত্রে একজন নতুন মুখকে দেখা যাবে এবং খুব শীঘ্রই চ্যানেলের তরফে প্রথম ঝলক বা প্রোমো প্রকাশ করা হবে।

সব মিলিয়ে, গল্পের ভিত মজবুত করার আগেই প্রযোজনা সংক্রান্ত এই জল্পনা ধারাবাহিকটির ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। রয় সিনেওয়ার্কস কি সত্যি সরছে? ক্যামেলিয়া প্রোডাকশন কি দায়িত্ব নেবে? যদিও কোনো পক্ষই এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, তবে টলিপাড়ার অন্দরে এই সম্ভাব্য রদবদলই এখন সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়।