মহারাষ্ট্রের বুকে এক হাড়হিম করা নৃশংসতার সাক্ষী থাকল দেশ। খাবারের লোভ দেখিয়ে এক নাবালিকাকে যৌন হেনস্থা এবং তারপরে তাকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল মহারাষ্ট্রের জনজীবন। এই পৈশাচিক ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত বৃদ্ধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মুম্বই-বেঙ্গালুরু হাইওয়ে। দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ রইল যান চলাচল।
চকোলেটের আড়ালে লুকিয়ে ছিল মরণফাঁদ স্থানীয় সূত্রে খবর, অভিযুক্ত ওই বৃদ্ধ শিশুটিকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে পাশবিক যৌন হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। নিজের লালসা মেটানোর পর অপরাধ ঢাকতে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে খুন করে ওই ব্যক্তি। শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধারের পরেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযুক্তের বয়স এবং তার এই চরম বিকৃত মানসিকতা দেখে হতবাক খোদ পুলিশ আধিকারিকরাও।
হাইওয়েতে জনরোষের মেগা বিস্ফোরণ ঘটনাটি জানাজানি হতেই ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে স্থানীয় বাসিন্দাদের। দোষীর ফাঁসির দাবিতে কাতারে কাতারে মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। মুম্বই-বেঙ্গালুরু জাতীয় সড়ক অবরোধ করে শুরু হয় বিক্ষোভ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশ প্রশাসনকে। বিক্ষোভকারীদের সাফ দাবি, এই ধরণের অপরাধীদের জন্য যেন কোনো আইনি শিথিলতা না থাকে। প্রায় কয়েক ঘণ্টা হাইওয়েতে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়, তৈরি হয় মাইলের পর মাইল দীর্ঘ যানজট।
তদন্তে পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত বৃদ্ধকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইন এবং খুনের ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট আসার পরেই ঘটনার বীভৎসতা আরও স্পষ্ট হবে। এলাকাটি অত্যন্ত উত্তেজনাপ্রবণ হওয়ায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের একবার বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল মহারাষ্ট্রের এই ঘটনা। ঘটনার ভয়াবহতা দেখে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এই পৈশাচিকতা যে ক্ষতের সৃষ্টি করল, তার বিচার কেবল আইনি মারপ্যাঁচে শান্ত হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।





