২০১৮ সালের সেই অভিশপ্ত পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং তৃণমূল কর্মী খইরুল ইসলাম খুনের ঘটনায় অবশেষে বড়সড় মোড়। দীর্ঘ আট বছর পর আইনের জালে ধরা দিলেন অভিযুক্ত ৩৬ জন হেভিওয়েট নেতা-কর্মী। বৃহস্পতিবার ইসলামপুর মহকুমা আদালতে তৃণমূল, বাম এবং কংগ্রেসের এই প্রভাবশালী নেতারা একযোগে আত্মসমর্পণ করলে জেলা রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার দাসপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে তৎকালীন শাসকদল তৃণমূলের সঙ্গে বাম-কংগ্রেস জোটের ভয়াবহ সংঘর্ষ বাধে। সেই রণক্ষেত্রেই প্রাণ হারান খইরুল ইসলাম। পুলিশ এই ঘটনায় খুনের মামলা রুজু করে। তদন্তের শুরুতে ২৪ জনের নাম থাকলেও, পরবর্তীতে চার্জশিটে মোট ৫৭ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আদালতে আত্মসমর্পণকারীদের তালিকায় যেমন রয়েছেন জেলা কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি অশোক রায় এবং সিপিএমের চোপড়া ২ নম্বর এরিয়া কমিটির সম্পাদক বিদ্যুৎ তরফদার, তেমনই রয়েছেন বর্তমান তৃণমূল নেতা তথা দাসপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান জিল্লুর রহমান। উল্লেখ্য, অভিযুক্তদের মধ্যে অনেকেই ঘটনার সময় অন্য দলে থাকলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবং প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়তেই পুলিশের সম্ভাব্য ধরপাকড় এড়াতে তাঁরা পরিকল্পিতভাবে আদালতে হাজিরা দেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিরোধীদের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশেই পরে অনেকের নাম চার্জশিটে ঢোকানো হয়েছে। তবে প্রশাসনিকভাবে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, অপরাধী যে দলেরই হোক, পার পাবে না। বৃহস্পতিবারের এই গণ-আত্মসমর্পণের ঘটনায় চোপড়া ও সংলগ্ন এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। আদালত এই ৩৬ জনকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠায় কি না, এখন সেটাই দেখার।





