ক্ষেপণাস্ত্রের মোকাবিলায় কি হার মানছে ট্যাঙ্ক? বিশ্বযুদ্ধের রণকৌশলে এসেছে বড় চমক!

সাম্প্রতিক রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত থেকে শুরু করে ইরান-ইজরায়েল উত্তেজনা—গত কয়েক বছরে বিশ্ব দেখেছে আধুনিক যুদ্ধের আমূল পরিবর্তন। আকাশে ড্রোনের রাজত্ব আর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের হানায় অনেক সময় মনে হতে পারে, স্থলযুদ্ধের সেই পুরনো দিনের ট্যাঙ্ক হয়তো এখন অকেজো। কিন্তু প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের ময়দানে ট্যাঙ্কের গুরুত্ব আজও অপরিসীম।
কেন এই সংশয়? সোশ্যাল মিডিয়ায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় জ্বলন্ত ট্যাঙ্কের ভিডিও দেখে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, ৫ কি ১০ লক্ষ টাকার ড্রোন বা মিসাইল দিয়ে যখন কোটি টাকার ট্যাঙ্ক উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে, তখন এর প্রয়োজনীয়তা কোথায়? বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আসলে ট্যাঙ্কের দুর্বলতা নয়, বরং প্রযুক্তির বিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন রণকৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা।
ট্যাঙ্ক কেন এখনও অপ্রতিদ্বন্দ্বী? যুদ্ধে জয়ী হওয়ার মূল শর্ত হলো ভূখণ্ড দখল করা এবং তা নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা। ড্রোন বা বিমান দিয়ে ধ্বংস করা সম্ভব হলেও, মাটিতে নামা বা এলাকা দখল করার জন্য স্থলবাহিনীর এবং ট্যাঙ্কের কোনো বিকল্প নেই। ট্যাঙ্কের শক্তির চারটি প্রধান স্তম্ভ একে আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে রেখেছে:
দুর্গম পথ জয়: যেকোনো ভৌগোলিক বা দুর্গম ভূখণ্ড অনায়াসে অতিক্রম করতে পারে শক্তিশালী এই সাঁজোয়া যান।
অজেয় সুরক্ষা: শত্রুপক্ষের প্রবল গোলাবর্ষণ বা আক্রমণ সহ্য করেও লক্ষ্যভেদে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে ট্যাঙ্ক।
বিধ্বংসী অগ্নিশক্তি: সুদৃঢ় প্রতিরক্ষাব্যূহ গুঁড়িয়ে দিয়ে শত্রুশিবিরকে পর্যুদস্ত করার মতো অসীম ক্ষমতা ট্যাঙ্কের তোপখানার রয়েছে।
শক ইফেক্ট (Shock Effect): যুদ্ধের ময়দানে ট্যাঙ্কের উপস্থিতি শত্রুপক্ষের মনে যে তীব্র আতঙ্ক ও প্রভাব তৈরি করে, তা অন্য কোনো অস্ত্র দিয়ে সম্ভব নয়।