‘বাবা বাঁচাও’ আর্তনাদ, ফুটপাত থেকে ১০ বছরের শিশুকন্যাকে অপহরণ করে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ!

রাজধানী দিল্লির রাজপথে আবারও এক ভয়াবহ ও নৃশংস ঘটনার সাক্ষী হলো শহরবাসী। দক্ষিণ দিল্লিতে ফুটপাতে পরিবারের সাথে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা ১০ বছরের এক শিশুকন্যাকে অপহরণ করে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক অ্যাপ-ভিত্তিক ক্যাব চালকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের নাম বাবলু, সে বিহারের বাসিন্দা। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাতে।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার গভীর রাতে, যখন দক্ষিণ দিল্লির একটি ফুটপাতে বাবা-মা ও তিন ভাই-বোনের সাথে ঘুমিয়ে ছিল ওই শিশুকন্যাটি। সেই সময় মদ্যপ অবস্থায় ক্যাব চালক বাবলু তার গাড়ি নিয়ে সেখানে দাঁড়ায়। যাত্রী পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বাবলুর নজর পড়ে ঘুমন্ত মেয়েটির ওপর। মুহূর্তের মধ্যে সে মেয়েটিকে তুলে গাড়িতে বসায়। মেয়ের চিৎকার শুনেই ঘুম ভেঙে যায় বাবার। তিনি গাড়িটির পিছু ধাওয়াও করেন, কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ঘাতক গাড়ি নিয়ে চম্পট দেয়। অসহায় বাবা তৎক্ষণাৎ পুলিশ কন্ট্রোল রুমে (পিসিআর) ফোন করেন।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দিল্লি পুলিশ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চার ঘণ্টার দীর্ঘ তল্লাশি অভিযান শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজে গাড়ির ছায়া ধরা পড়লেও নম্বর স্পষ্ট ছিল না। পুলিশ এলাকাভিত্তিক রাইড-হেলিং অ্যাপগুলোর ট্রিপের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। জিপিএস প্রযুক্তি ও অভিযুক্তের মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ পশ্চিম দিল্লির বিকাশপুরী এলাকায় গাড়িটির হদিশ পায়। পুলিশ জানতে পারে, মেয়েটিকে অপহরণের পর বাবলু তাকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে গুরুগ্রাম-ফরিদাবাদ রোডের নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানেই ধর্ষণ করে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে।
সবথেকে ভয়াবহ তথ্য হলো, এই নৃশংস অপরাধ করার পরেও বাবলুর আচরণ ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। হত্যার পর সে গুরুগ্রাম থেকে বিকাশপুরী পর্যন্ত এক যাত্রীকে নিয়েও গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। সে এমনভাবে স্বাভাবিক আচরণ করছিল যে বোঝাই যাচ্ছিল না সে মাত্র কিছুক্ষণ আগেই কোনো জঘন্য অপরাধ করে এসেছে। বিহারের বাসিন্দা বাবলুর বিরুদ্ধে আগে থেকেই মারামারি ও হামলার পাঁচটি মামলা রয়েছে।
মঙ্গলবার তাকে যখন ঘটনাস্থল দেখাতে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন সে পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করে। এই সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অভিযুক্তের পায়ে গুলি লাগে এবং তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়। মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে এই অপরাধীকে খুঁজে বের করলেও, শিশুকন্যাটিকে জীবিত উদ্ধার করতে না পারায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। রাজধানীর সুরক্ষায় নিয়োজিত অ্যাপ-ভিত্তিক ক্যাব চালকদের নিরাপত্তা ও ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন নিয়ে আবারও বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো এই ঘটনায়।