কোথায় লুকোলেন পুলিশকর্তা শান্তনু? খোঁজ পেতে এবার নবান্নের বিশেষ দপ্তরে চিঠি পাঠাল ইডি!

শহর কলকাতার প্রভাবশালী পুলিশকর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে নিয়ে এবার চূড়ান্ত তৎপরতা শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। তাঁর নামে ইতিমধ্যেই লুক আউট নোটিস জারি করা হয়েছে, যাতে তিনি কোনোভাবেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারেন। এবার এই আইপিএস অফিসারের বর্তমান অবস্থান ও গতিবিধি জানতে সরাসরি ‘ডিরেক্টরেট অফ সিকিউরিটি’-কে চিঠি দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

কোথায় আছেন শান্তনু? ইডি সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে পাঠানো চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে যে শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এই মুহূর্তে ঠিক কোথায় কর্মরত এবং কী ধরনের ডিউটি করছেন। মূলত তিনি যাতে ইডি দপ্তরে হাজিরা দেন, সেই লক্ষ্যেই কলকাতা পুলিশকে এই কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তলব এড়িয়েছেন বারবার: উল্লেখ্য, এর আগে একাধিকবার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল ইডি। কিন্তু প্রতিবারই তিনি কেন্দ্রীয় সংস্থার হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন। গত ২৮ এপ্রিল তাঁকে ইডি দপ্তরে ডাকা হলেও তিনি উপস্থিত হননি। এই অসহযোগিতার কারণেই তদন্তকারীরা তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করতে বাধ্য হন।

তদন্তের মূলে ‘সোনা পাপ্পু’ সংযোগ: শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নাম তদন্তের রাডারে আসার নেপথ্যে রয়েছে গোলপার্কের কাঁকুলিয়া রোডের একটি অশান্তির ঘটনা। সেই ঘটনায় কুখ্যাত ব্যবসায়ী সোনা পাপ্পুর নাম সামনে আসে। জমি দখল এবং তোলাবাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে এই পাপ্পুর বিরুদ্ধে। কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের সঙ্গে এই ব্যবসায়ীর যোগসূত্র ও বিপুল বেনামি সম্পত্তির হদিস পেতেই এখন মরিয়া ইডি।

কালীঘাট থানার দায়িত্ব সামলানো এই দুঁদে পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে ইডি-র এই কড়া পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতি এবং পুলিশ মহলে বড়সড় কম্পন তৈরি করেছে। এখন দেখার, ইডি-র এই চিঠির পর নবান্ন বা কলকাতা পুলিশ ঠিক কী অবস্থান নেয়।