একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে যখন নারী স্বাধীনতার জয়গান গাওয়া হচ্ছে, ঠিক তখনই হরিয়ানার পানিপথ থেকে সামনে এল এক হাড়হিম করা ঘটনা। নিজের পরিবারের হাতেই পশুর মতো শিকলবন্দি হয়ে দিন কাটাতে হলো এক তরুণীকে। দীর্ঘ ১৫ ফুট লম্বা ভারী লোহার শিকলে পা বেঁধে তাঁকে একটি ঘরের ভেতর আটকে রাখা হয়েছিল। ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
‘নারী তু নারায়ণী উত্থান সমিতি’ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কাছে খবর যায় যে, পানিপথের একটি বাড়িতে এক যুবতীকে অমানবিক অবস্থায় আটকে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে সংগঠনের সভানেত্রী সবিতা আর্য তড়িঘড়ি পুলিশ দল নিয়ে ওই বাড়িতে হানা দেন। ঘরের দরজা খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ উদ্ধারকারী দলের। দেখা যায়, একটি অন্ধকার ঘরে মোটা লোহার শিকলে বাঁধা অবস্থায় বসে আছেন ওই তরুণী। তাঁর নড়াচড়া পুরোপুরি বন্ধ করতে শিকলের অন্য প্রান্তটি দেওয়াল ও একটি ভারী বস্তুর সাথে তালাবন্ধ করে রাখা হয়েছিল।
উদ্ধার হওয়ার পর ওই তরুণী যে অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, তা শুনে স্তম্ভিত দুঁদে পুলিশ আধিকারিকরাও। তরুণীর দাবি, বাড়ির রান্নাবান্না থেকে শুরু করে ঘর পরিষ্কার—সব কাজই তাঁকে দিয়ে করানো হতো। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই সমস্ত কাজের সময়ও তাঁর পা থেকে শিকল খোলা হতো না। কাজ শেষ হওয়ার পর তাঁকে পুনরায় একটি নির্দিষ্ট ঘরে তালাবন্ধ করে রাখা হতো। এমনকি শৌচাগারে যাওয়ার প্রয়োজন হলেও শিকল থেকে মুক্তি মিলত না তাঁর। দিনের পর দিন এই নারকীয় যন্ত্রণার শিকার হতে হয়েছে তাঁকে।
কেন এমন নিষ্ঠুরতা? পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পরিবারের সদস্যরা যে যুক্তি দিয়েছেন, তা আরও ভয়ঙ্কর। তাঁদের দাবি, ওই তরুণী এর আগে দু’বার বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। পরিবারের ‘সম্মান’ রক্ষা করতেই নাকি তাঁরা মেয়েকে এভাবে বেঁধে রাখতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের কাছে পলায়ন আটকাতে লোহার শিকলই ছিল একমাত্র সমাধান।
এই মধ্যযুগীয় বর্বরতার খবর পৌঁছায় রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রেনু ভাটিয়ার কাছে। তিনি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন এবং জেলা পুলিশকে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে কাউন্সেলিং করানো হচ্ছে। পৈশাচিক এই ঘটনা ফের একবার মনে করিয়ে দিল যে, তথাকথিত ‘সম্মান’ রক্ষার নামে আজও ঘরের অন্দরে নারীরা কতটা অসুরক্ষিত।





