কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি কাণ্ডে নজিরবিহীন নির্দেশ! কোন ফাঁসে পড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী?

দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ এবং ‘প্রিভিলেজড প্রি-পুজো এন্ট্রি’-র নামে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে টিকিট বিক্রির চাঞ্চল্যকর অভিযোগে বড়সড় আইনি বিপাকে পড়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন। এই হাইপ্রোফাইল দুর্নীতির মামলায় এবার ওই প্রাক্তন মন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীর পরিচালিত ‘মাস আর্ট’ (Maa Art) সংস্থার সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিশিষ্ট বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের একক বেঞ্চে এই মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত এই কড়া নির্দেশিকা জারি করে। আগামী ২৭ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই অভিযোগ উঠতে শুরু করেছিল যে, দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো আয়োজনের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই গুরুতর আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতার বউবাজার থানায় একটি সুনির্দিষ্ট এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। সেই এফআইআর সম্পূর্ণ খারিজ করার আবেদন জানিয়েই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী। এদিনের শুনানিতে ইন্দ্রনীল সেনের আইনজীবী আদালতের কাছে দাবি করেন যে, এই প্রিভিউ শো পুজোর আগেই আয়োজন করা হতো এবং মোট ২৪টি দুর্গাপুজো কমিটিকে বাছাই করে এই অনুষ্ঠান করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, টিকিটের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করা হলেও এর আগে কেউ কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি।
অন্যদিকে, রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতে জোরালো সওয়াল করে জানান যে, মন্ত্রীর স্ত্রী ও তাঁর সহযোগীরা মিলে ‘মাস আর্ট’ নামে একটি বিশেষ সোসাইটি গঠন করেছিলেন। এই সংস্থা কলকাতার ২৪টি প্রধান পুজো কমিটির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং তদন্তে ইতিমধ্যেই প্রায় ২.৯ কোটি টাকার হদিশ মিলেছে। রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে এই ঘটনার ফরেন্সিক অডিটও করানো হয়েছে এবং তার রিপোর্টও বর্তমানে আদালতের হাতে রয়েছে। অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল অভিযোগ করেন যে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে টিকিট বিক্রি করা হতো এবং নির্দিষ্ট অনুপাত অনুযায়ী টাকা ভাগ হওয়ার পর বাকি মোটা অংকের টাকা সরাসরি তাঁদের ব্যক্তিগত পকেটে ঢুকেছে।
উভয়পক্ষের সওয়াল শোনার পর বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন যে, অভিযুক্ত এই সংস্থাটি কি দুর্গাপুজো প্রোমোটিং ছাড়া অন্য কোনো বৈধ কাজ করত? এরপরই বিচারপতির স্পষ্ট নির্দেশ, নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ‘মাস আর্ট’ সংস্থার সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সারাবছর ধরে ওই অ্যাকাউন্টে কী ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়েছে, তা আদালতের নজরে আনতে হবে। এই নির্দেশিকার পরই প্রাক্তন মন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাঙ্কের সমস্ত লেনদেনের গোপন নথি আদালতে জমা দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা এই মামলাকে এক নতুন মোড় দিয়েছে।