‘কেল্লা ফতে’ করলেন অমিত শাহ! নীতীশকে পিছনে ফেলে বিহারে এককভাবে এগিয়ে বিজেপি, কুর্সি নিয়ে শুরু বড় প্রশ্ন

লোকসভা নির্বাচনের পর বিজেপির অভ্যন্তরে এবং সংঘ পরিবারের মধ্যে থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপর যে চাপ ছিল, বিহার বিধানসভা নির্বাচনে প্রাথমিক প্রবণতা দেখে মনে হচ্ছে সেই অমিত শাহই যেন এবার ‘কেল্লা ফতে’ করতে চলেছেন। বিহার ভোটের গণনা (Bihar Election Result 2025) সবেমাত্র শুরু হয়েছে এবং প্রাথমিক ট্রেন্ডে বেশ কয়েকটি তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত মিলেছে।
সকাল ১০টা ৫৫-র গণনা অনুসারে, বিহারে এনডিএ জোট ১৮৩টিরও বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। কিন্তু এর থেকেও বড় ঘটনা হলো— জোটের মধ্যে নীতীশ কুমারের সংযুক্ত জনতা দল (জেডিইউ)-এর তুলনায় এককভাবে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। এই মুহূর্তে বিজেপি ৮৩টি আসনে এবং নীতীশ কুমারের জেডিইউ ৭৪টি আসনে এগিয়ে।
নীতীশ কি ফের মুখ্যমন্ত্রী হবেন? প্রশ্ন ২০ বছরের কুর্সি নিয়ে
এই পরিসংখ্যান কোনো মামুলি ইঙ্গিত নয়। যদি চূড়ান্ত ফলাফল এই প্রবণতাতেই বজায় থাকে, তবে বিহারে নির্বাচনের পর বড় প্রশ্ন উঠবে: নীতীশ কুমার কি ফের মুখ্যমন্ত্রী হবেন, নাকি তাঁর প্রায় ২০ বছরের মুখ্যমন্ত্রিত্বের মেয়াদের যবনিকা পাত হবে?
পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি কৌশলগতভাবে কখনোই সরাসরি ঘোষণা করতে চায়নি যে নীতীশ কুমারই জোটের মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা অমিত শাহ, কেউই এ বিষয়ে সরাসরি উত্তর দেননি; খুব পীড়াপীড়ি করলে অমিত শাহ শুধু বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী পদে কোনো ভ্যাকেন্সি নেই।
চিরাগ-ফ্যাক্টর ও অভ্যন্তরীণ সমর্থন: বিজেপির সুবিধা
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, বিজেপি যে কেবল জোটের মধ্যে এগিয়ে তাই নয়, লোক জনশক্তি নেতা চিরাগ পাসোয়ান প্রায় পুরোপুরি বিজেপির পকেটে। চিরাগ বরাবরই নীতীশ-বিরোধী হিসেবে পরিচিত। ফলে নীতীশের পরিবর্তে যদি বিজেপির কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করার প্রশ্ন ওঠে, তবে চিরাগ পাসোয়ানের দল অমিত শাহের পাশে থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এর বাইরেও, নীতীশ কুমারের পার্টির অনেক বিধায়ক ও নেতার সঙ্গে বিজেপির বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে। প্রয়োজনে তাঁরাও পাশা বদলে দিতে পিছন থেকে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
‘পল্টুরাম’ নীতীশ: শেষ খেলা বাকি?
তবে, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নীতীশ কুমার একজন পোড় খাওয়া নেতা এবং বিহারে তিনি ‘পল্টুরাম’ (দলবদলু) হিসেবে খ্যাত। বেগতিক দেখলে তিনি আবার লালু প্রসাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ফেলবেন কিনা, তা কেউ জানে না। ফলে, প্রাথমিক প্রবণতায় এনডিএ অনেকটাই এগিয়ে থাকলেও, ফল ঘোষণার পর আরও একপ্রস্ত রাজনৈতিক খেলাধূলা হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।