৪ মে, সোমবার বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারণ। ইভিএম বাক্স খুলে জনমত প্রকাশ হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। ঠিক এই সন্ধিক্ষণে সুদূর কেরল থেকে বাংলার রাজনীতিতে কার্যত ‘বোমা’ ফাটালেন রাজ্য কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রী দীপা দাশমুন্সি। বাংলায় কংগ্রেসের ইন-চার্জ হয়েও ঘাসফুল শিবিরের জয় নিয়ে তাঁর এই আশাবাদী মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
কেরলে বসে বাংলার সমীকরণ তিরুবনন্তপুরমে এক সাক্ষাৎকারে দীপা দাশমুন্সি এবারের ভোট প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচন নির্বাচন কমিশন চালাচ্ছে, যা কার্যত বিজেপির হাতে। আমি প্রথম দফা পর্যন্ত বাংলায় ছিলাম। সেখানে দেখেছিলাম বিজেপি ভালো ফল করছে। কিন্তু আমার মনে হয়, দ্বিতীয় দফা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস অনেক ভালো ফল করবে।”
বিস্ফোরক মন্তব্যে অস্বস্তিতে কংগ্রেস কংগ্রেসের রাজ্য ইন-চার্জ হয়েও তৃণমূলের পক্ষে এমন সওয়াল করা নিয়ে দলের ভেতরেই অস্বস্তি শুরু হয়েছে। দীপা দেবী নিজেই স্বীকার করেছেন যে প্রথম দফায় বিজেপি শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। কিন্তু তাঁর দাবি অনুযায়ী, বাংলার মানুষ শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছেন। কংগ্রেসের একাংশের দাবি, দলের শীর্ষ নেত্রী হয়ে তৃণমূলের হয়ে এমন ‘ভবিষ্যৎবাণী’ করা নিচুতলার কর্মীদের মনোবল কমিয়ে দিতে পারে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই মন্তব্যের মাধ্যমে তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের গোপন আঁতাতের তত্ত্বটিই যেন সিলমোহর পেল।
তৃণমূল বনাম বিজেপি: পাল্টা তোপ দীপা দাশমুন্সির এই বক্তব্যকে লুফে নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে তাঁর এই ‘বাস্তববোধকে’ স্বাগত জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি এই মন্তব্যকে স্রেফ ‘রাজনৈতিক কৌশল’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এক নেতার কটাক্ষ, “দীপা দেবী কেরলে বসে বাংলার হাওয়া বুঝতে পারছেন না। মাঠের চিত্র একেবারে আলাদা। তৃণমূলকে অক্সিজেন দিতেই তিনি এমন অবাস্তব কথা বলছেন।”
কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রিয়-পত্নী। তাঁর দাবি, কমিশন যেহেতু বিজেপির নিয়ন্ত্রণে বলে অনেকে মনে করছেন, তাই পরিস্থিতি সেভাবেই চালিত হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত জনমত কোন দিকে যায়, সেটাই দেখার।
৪ মে সকাল ৮টা থেকেই শুরু হবে কাউন্টডাউন। দীপা দাশমুন্সির এই সাহসী ‘প্রেডিকশন’ কি বাস্তবে মিলবে? নাকি সুদূর দক্ষিণী রাজ্যে বসে বাংলার স্পন্দন বুঝতে ভুল করলেন তিনি? উত্তর পেতে এখন কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা।





