উত্তরাখণ্ড থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত একের পর এক ভূমিধসে বিপর্যস্ত হিমালয় অঞ্চল। কাশ্মীর থেকে নাগাল্যান্ড পর্যন্ত ১৩টি রাজ্যকে হিমালয়ান স্টেট হিসেবে ধরা হয়। ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ৮২২ দিনই এই অঞ্চলে চরম আবহাওয়া দেখা গেছে, যার ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছেন ৮৬৩ জন। কিন্তু কেন বারবার এমন ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে?
হিমালয়ের জন্ম ও ভূ-প্রাকৃতিক কারণ
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, হিমালয় এলাকার লড়াই শুরু হয়েছিল প্রায় ২২ কোটি বছর আগে। সেই সময় পৃথিবীর সব মহাদেশ একসঙ্গে একটি একক ভূখণ্ডে (প্যানজিয়া) ছিল। ধীরে ধীরে মহাদেশগুলো আলাদা হতে শুরু করে। ২২ কোটি বছর আগে, পৃথিবীর উপরের পাথরের স্তর বা টেকটনিক প্লেটগুলো একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সেই সময় ইন্ডিয়ান প্লেট বছরে ২০ সেন্টিমিটার গতিতে উত্তর দিকে ইউরেশিয়ান প্লেটের দিকে এগোতে থাকে। ১৫ কোটি বছর পর ইন্ডিয়ান প্লেটটি ইউরেশিয়ান প্লেটের সঙ্গে প্রচণ্ড ধাক্কা খায়। এই সংঘর্ষের ফলেই সাড়ে পাঁচ কোটি বছর আগে সৃষ্টি হয় হিমালয় পর্বতমালা। তবে ধাক্কাধাক্কি এখনও থামেনি। ইন্ডিয়ান প্লেটের চাপে ইউরেশিয়ান প্লেট ক্রমাগত সরছে, যার ফলে ইরান থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত বিশাল এলাকায় মাঝেমধ্যে ভূমিকম্প হয়।
ভূমিধসের পেছনে মানুষের ভূমিকা
এই প্রাকৃতিক ভূ-প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি, মানুষের কিছু কর্মকাণ্ডও ভূমিধসের জন্য দায়ী। হিমালয় এলাকায় একের পর এক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, রাস্তাঘাট, হোটেল এবং রিসর্ট তৈরির কাজ চলছে। এগুলোর বেশিরভাগই পরিবেশগত নিয়ম না মেনে তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে ভাগীরথী, মন্দাকিনী, অলকানন্দা, ধৌলিগঙ্গা এবং যমুনার মতো গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা হিমালয় অঞ্চলে ভূমিধসের পরিমাণ বাড়িয়ে তুলছে।





