ডিজেল বাষ্পে উধাও! ১২০০ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে ইতিহাস গড়ল ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন

ভারতীয় রেলওয়ের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মাইলফলক তৈরি হলো। দেশের প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন ১২০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব সফলভাবে অতিক্রম করে নিজেদের পরীক্ষামূলক যাত্রা সম্পন্ন করেছে। সবথেকে বড় কথা, এই ট্রেনি চলার সময় ৩০০০ লিটারেরও বেশি ডিজেল সাশ্রয় করেছে। ভারতীয় রেলের এই অভাবনীয় সাফল্যকে দেশের সবুজ পরিবহন ব্যবস্থার দিকে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করা হচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির এক অনন্য নিদর্শন

ভারতীয় রেলওয়ের নিজস্ব উদ্যোগে তৈরি হয়েছে এই হাইড্রোজেন ইঞ্জিন চালিত ট্রেনটি। পরীক্ষামূলকভাবে দেশের বিভিন্ন রুটে ট্রেনটি চালানো হয় এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই এর পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত সন্তোষজনক।

  • কীভাবে কাজ করে এই ইঞ্জিন? এই ট্রেনের ইঞ্জিনটি হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উৎপন্ন বিদ্যুৎ শক্তির সাহায্যে চলে। এর ফলে এতে কোনো ধরনের কার্বন বা ক্ষতিকর ধোঁয়া নির্গমন হয় না।

  • ডিজেল ও খরচ সাশ্রয়: রেল মন্ত্রকের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মাত্র ১২০০ কিলোমিটারের পরীক্ষামূলক যাত্রাতেই ৩০০০ লিটারের বেশি ডিজেল বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে যখন এই ট্রেনগুলি পুরোদমে বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরু করবে, তখন জ্বালানি সাশ্রয়ের পরিমাণ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।

সবুজ হাইড্রোজেন মিশন ও ভারতের ভবিষ্যৎ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত বর্তমানে ‘ন্যাশনাল গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন’-এর মাধ্যমে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ করছে। দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের এই সফল পরীক্ষামূলক রান সেই মিশনেরই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পালক। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রেল নেটওয়ার্কের দেশে এই প্রযুক্তি সফলভাবে প্রয়োগ করা গেলে পরিবেশ দূষণ কমানোর পাশাপাশি দেশের আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতাও বহুলাংশে কমবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি শুধু রেল যোগাযোগ নয়, আগামী দিনে দেশের সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থার চিত্রটাই বদলে দিতে পারে। সাধারণ ডিজেল ইঞ্জিনের সমকক্ষ শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধে এক শক্তিশালী অস্ত্র হয়ে উঠতে চলেছে।