কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য এবার সুখবর আসার সময় হয়েছে। ২০২৬-এর মে মাস পড়তেই অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা। শোনা যাচ্ছে, এবার বেতন বৃদ্ধির যে ফর্মুলা সরকার বাছতে চলেছে, তা গত কয়েক দশকের রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। বিশেষ করে ‘ফ্যামিলি ইউনিট’ বা পরিবারের সদস্য সংখ্যা ধরার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে এসেছে।
৩ নয়, এবার ৫ সদস্যের পরিবার: এতদিন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামোর ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত হতো ১৯৫৬ সালের একটি পুরনো ফর্মুলার ওপর ভিত্তি করে। সেখানে পরিবার বলতে স্বামী, স্ত্রী এবং একটি সন্তান—অর্থাৎ ৩ জন সদস্যকে ধরা হতো। কিন্তু বিভিন্ন কর্মী সংগঠনগুলির দাবি, বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির বাজারে এই হিসেব একেবারেই সেকেলে। তাই এবার পরিবারের ইউনিট সংখ্যা ৩ থেকে বাড়িয়ে ৫ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে বৃদ্ধ বাবা-মাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
কতটা বাড়বে বেতন? যদি ৫ সদস্যের পরিবারের ফর্মুলা গৃহীত হয়, তবে ন্যূনতম বেসিক স্যালারি এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা:
বর্তমানে ন্যূনতম মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা।
৫ সদস্যের ফর্মুলা এবং নতুন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর (প্রস্তাবিত ৩.২৫ থেকে ৩.৮৩) কার্যকর হলে তা বেড়ে ৫৪,০০০ থেকে ৬৯,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধির হারও ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার জোরালো দাবি উঠেছে।
কেন এই পরিবর্তন জরুরি? কর্মী সংগঠনগুলির যুক্তি, গত ১০ বছরে জীবনযাত্রার খরচ আকাশছোঁয়া হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিবহণ খরচ মেটাতে ৩ জনের পরিবারের হিসেবে পাওয়া বেতনে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মীদের। তাই ৫ সদস্যের বৈজ্ঞানিক লিভিং ওয়েজ (Scientific Living Wage) ফর্মুলা মেনে বেতন কাঠামো তৈরি করলে তবেই কর্মীরা স্বস্তি পাবেন।
কবে নাগাদ কার্যকর হতে পারে? অষ্টম বেতন কমিশনের কাজ ইতিমধ্যেই গতি পেয়েছে। ২০ জানুয়ারি দিল্লিতে এই কমিশনের অফিস বরাদ্দ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা চলছে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায়, তবে ২০২৬-এর শেষ বা ২০২৭-এর শুরু থেকেই এই নতুন কাঠামো কার্যকর হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপে ১ কোটিরও বেশি কর্মী এবং পেনশনভোগী উপকৃত হতে চলেছেন। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত পরিবারের নতুন সংজ্ঞায় সিলমোহর পড়ে কি না!





