কেন্দ্রীয় কর্মীদের জন্য খারাপ খবর, ১৩ শতাংশের কম বৃদ্ধি পেতে পারে বেতন?

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে আশার আলো দেখিয়েও নতুন করে তৈরি হয়েছে সংশয়। শোনা যাচ্ছে, প্রত্যাশার তুলনায় বেতন বৃদ্ধি ১৩ শতাংশেরও কম হতে পারে, যা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে তীব্র হতাশা দেখা দিয়েছে। বিশেষত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে নতুন তথ্য সামনে আসায় এই জল্পনা আরও বেড়েছে।

ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে নতুন গুঞ্জন:

এতদিন পর্যন্ত কর্মীদের মধ্যে একটি ধারণা ছিল যে, সপ্তম বেতন কমিশনের মতো এবারও ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের ওপর ভিত্তি করে বেতন বৃদ্ধি হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে কর্মীদের বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ত। কিন্তু সম্প্রতি নতুন তথ্য ফাঁস হয়েছে যে, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ১.৮ নির্ধারণ করা হতে পারে। যদি এই ১.৮ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকর হয়, তবে যাদের মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা, তা বেড়ে ৩২,০০০ টাকায় দাঁড়াতে পারে। যদিও এটিও একটি আশাব্যঞ্জক বৃদ্ধি, কিন্তু বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন দ্বিগুণের বেশি বেতন বৃদ্ধির দাবি করে আসছে। এখন দেখার বিষয়, বাস্তবে কত শতাংশ বেতন বৃদ্ধি হয়।

ডিএ বৃদ্ধি এবং অষ্টম বেতন কমিশনের বিলম্ব:

এরই মধ্যে অবশ্য কেন্দ্রীয় কর্মীদের জন্য একটি ইতিবাচক খবর মিলেছে। চলতি জুলাই মাস থেকেই ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (DA) বাড়তে চলেছে বলে খবর। এটি কর্মীদের জন্য সাময়িক স্বস্তি আনলেও, অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না।

পূর্বে ধারণা করা হয়েছিল যে, ২০২৬ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হবে এবং এর দ্বারা লক্ষাধিক কর্মচারী ও পেনশনভোগী উপকৃত হবেন। তবে, সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, অষ্টম বেতন কমিশনের প্যানেল এখনও গঠিত হয়নি। কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়ার পরেই বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের অনুমান, সম্ভবত নতুন বেতন কমিশনের সুবিধা পেতে জানুয়ারি মাস নয়, আরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।

অনিশ্চয়তা ও কর্মীদের দাবি:

এই অনিশ্চয়তা কেন্দ্রীয় কর্মীদের মধ্যে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। একদিকে ডিএ বৃদ্ধির খবরে কিছুটা স্বস্তি, অন্যদিকে নতুন বেতন কমিশন নিয়ে বিলম্ব এবং কম বৃদ্ধির আশঙ্কায় কর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে জোরদার সওয়াল করে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয় এবং অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী আসে, তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে লক্ষ লক্ষ কেন্দ্রীয় কর্মচারী ও পেনশনভোগী।