কেতন আগরওয়াল হত্যা রহস্য, বিয়ের বিলাসবহুল আয়োজন থেকে খুনের ছক, মুখ খুললেন অভিযুক্তের বাবা

পুণের তরুণ ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলায় প্রতিদিন সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে ঘুরতে গিয়ে খাদের নিচে পড়ে মৃত্যু হয় কেতনের। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ একে দুর্ঘটনা মনে করলেও, পরে তদন্তে উঠে আসে খুনের ছক। এই ঘটনায় অভিযুক্ত কেতনের বাগদত্তা সিয়া গয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। মামলার আবহে এবার মুখ খুললেন অভিযুক্ত সিয়া গয়ালের বাবা প্রবীণ গয়াল এবং মা পূজা গয়াল।
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রবীণ গয়াল স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘নিউজডটজ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শোক প্রকাশ করে জানান, কেতনকে তাঁদের পরিবার নিজের ছেলের মতোই ভালোবাসত। তিনি বলেন, “যা ঘটেছে তা অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। কেতন আমাদের পরিবারের সদস্য ছিল। আমরা ওকে ভীষণ ভালবাসতাম, আমাদের কাছে ও নিজের ছেলের মতোই ছিল।”
একই সঙ্গে তিনি সিয়া এবং কেতনের বিয়ে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া জল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছেন। শোনা যাচ্ছিল, উদয়পুরে বিলাসবহুল অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। এ প্রসঙ্গে প্রবীণ গয়াল স্পষ্ট করেন, “কোনও ফ্লাইট বুকিং করা হয়নি। উদয়পুরে হোটেল বুকিং-সহ পুরো বিয়ের বাজেট ৩ থেকে ৫ কোটি টাকার মধ্যে রাখা হয়েছিল।” তবে সেই বিয়েতে আদৌ কেতন কতটা উৎসাহী ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
অন্যদিকে, মেয়ের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিয়ার মা পূজা গয়ালের মন্তব্য শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সিয়া যদি এই হত্যার ঘটনায় দোষী প্রমাণিত হয়, তবে আইনের চোখে তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। NewsDotz-কে তিনি বলেন, “যদি ও দোষী হয়, তাহলে ওর কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত। দোষী প্রমাণিত হলে ওকে ফাঁসি দেওয়া হোক। একজন মা হিসেবে আমি এই কথাই বলছি।”
উল্লেখ্য, ঘটনার দিন সিয়া গয়ালের সঙ্গে লোহাগড় দুর্গে গিয়েছিলেন কেতন। সেখানেই তাঁকে খাদে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, সিয়ার সঙ্গে চেতন চৌধুরীর গোপন প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ানোয় কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। পুলিশি জেরায় সিয়া এবং চেতন একে অপরকে দোষারোপ করছেন। সিয়ার মায়ের এই কঠোর অবস্থান এবং বাবার আবেগঘন বিবৃতি এই হাই-প্রোফাইল মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিল কি না, তা নিয়ে এখন চলছে জোর জল্পনা। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে, এই হত্যাকাণ্ডের মূলে ছিল এক অন্ধকার প্রেমের ত্রিভুজ। আপাতত আদালতের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় দেশবাসী।