রাম মন্দিরে আর্থিক নয়ছয়! এফআইআর দায়েরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের বড় অ্যাকশন

অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া পবিত্র অনুদান আত্মসাতের অভিযোগে উত্তাল উত্তরপ্রদেশ। এই চাঞ্চল্যকর মামলায় অভিযোগ দায়েরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় সাফল্য পেল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত আটজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর সদস্য কৃষ্ণ মোহনের দায়ের করা এফআইআর-এর ভিত্তিতেই এই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ।

গ্রেফতার হওয়া আট অভিযুক্তের নাম অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লভকুশ মিশ্র, মণীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামশঙ্কর যাদব। ট্রাস্টের অভিযোগ, মন্দির তহবিলের অর্থ তছরুপের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই ব্যক্তিরা। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ৩০৫, ৩০৬, ৩১৬(৫), ৩১৭(৪), ৩১৭(৫), ৬১ ও ৩(৫) ধারায় এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ১৩(১)(ক) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। রাম মন্দিরের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর ১৩ জুন সরকার এই এসআইটি গঠন করেছিল। সূত্রের খবর, এসআইটি-র প্রাথমিক রিপোর্টের সুপারিশ মেনেই এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৭ জুন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব রাম মন্দিরের অনুদানের কোটি কোটি টাকা গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি আদালতকে বিষয়টি দেখার আর্জিও জানিয়েছিলেন। এর পরই বিতর্ক রাজনৈতিক মাত্রা পায়। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) প্রধান অলোক কুমার পাল্টা অভিযোগ তুলে দাবি করেন, ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিরোধীরা রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে।

তবে এফআইআর দায়েরের পরেও জল মাপছে রাজনৈতিক মহল। অখিলেশ যাদব সোশ্যাল মিডিয়ায় তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় শুধুমাত্র ছোট মাছেরাই শাস্তি পাবে, অথচ নেপথ্যে থাকা ‘বড় মাছেরা’ অনায়াসেই পার পেয়ে যাবে। অখিলেশ আরও অভিযোগ করেন, এসআইটি-র তদন্ত প্রক্রিয়াটি পূর্বনির্ধারিত। তিনি দাবি করেছেন, এফআইআর হওয়ার আগেই প্রমাণ লোপাট করা হয়েছে এবং কোন বড় রাঘব বোয়ালকে বাঁচানো হবে, তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখা হয়েছে।

বর্তমানে অভিযুক্ত আটজনকেই নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, এই ঘটনায় আদতে কারা জড়িত? রাজনৈতিক তরজা ও আইনি লড়াইয়ের মাঝে মন্দির ট্রাস্ট এবং তদন্তকারী দলের ওপর এখন সকলের নজর।