কেজরিওয়ালের সাম্রাজ্যে ধস! দল ছাড়লেন রাঘব-হরভজন সহ ৭ সাংসদ, রাজ্যসভায় শক্তি বাড়ল বিজেপির

আম আদমি পার্টি (AAP) এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের জন্য সোমবার দিনটি এক চরম বিপর্যয় হিসেবে প্রমাণিত হলো। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান আম আদমি পার্টির সাতজন প্রভাবশালী সাংসদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন। রাজ্যসভা থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সাত নেতার নাম এখন সরকারিভাবে বিজেপির সাংসদ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই গণ-দলত্যাগের ফলে রাজ্যসভায় বিজেপির শক্তি বেড়ে ১১৩-তে দাঁড়িয়েছে।

বিজেপিতে যোগ দিলেন কারা?
যে সাতজন সাংসদ কেজরিওয়ালের হাত ছেড়ে পদ্ম শিবিরে যোগ দিলেন, তাঁরা হলেন— অশোক কুমার মিত্তল, রাঘব চাড্ডা, হরভজন সিং, সন্দীপ কুমার পাঠক, বিক্রমজিৎ সিং সাহনি, স্বাতী মালিওয়াল এবং রাজিন্দর গুপ্তা। শুক্রবার রাঘব চাড্ডা এবং সন্দীপ পাঠক বিজেপিতে যোগ দিলে তাঁদের মিষ্টিমুখ করিয়ে স্বাগত জানান বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন। এই ভাঙনের পর ১০ জন সাংসদ বিশিষ্ট আপ-এর হাতে এখন রইলেন মাত্র ৩ জন সাংসদ (সঞ্জয় সিং, নারায়ণ দাস গুপ্ত এবং সন্ত বলবীর সিং)।

বিদ্রোহের কারণ কী?
সাংসদদের মধ্যে রাঘব চাড্ডা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দলের অভ্যন্তরে ক্রমাগত একাকীত্ব, হতাশা এবং নেতৃত্বের ওপর বিতৃষ্ণার কারণেই তাঁরা এই পথ বেছে নিয়েছেন। অন্যদিকে, বিক্রমজিৎ সাহনি পাঞ্জাবের শাসনব্যবস্থা, ক্রমবর্ধমান ঋণ এবং মাদক সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। লক্ষণীয় বিষয় হলো, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সমাজমাধ্যমে ১০ লক্ষ ফলোয়ার হারিয়েছেন রাঘব চাড্ডা।

আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি সঞ্জয় সিং-এর
এই দলত্যাগকে ‘সম্পূর্ণ অবৈধ’ বলে দাবি করেছেন আপ নেতা সঞ্জয় সিং। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি নিয়ম লঙ্ঘন করে সাংসদদের দলে টেনেছে। তিনি প্রখ্যাত আইনজীবী কপিল সিব্বল এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞ পি ডি টি আচার্যর পরামর্শ নিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে, দলত্যাগ-বিরোধী আইন (Anti-defection law) অনুযায়ী এই সাতজনকেই অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত। আম আদমি পার্টি এখন এই লড়াইকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।