মহাকাশে মহাপ্রলয়! ১৬০৭ সালের একটি ড্রয়িং বদলে দিল বিজ্ঞানের ইতিহাস, বিপদে পৃথিবী?

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে অন্যতম বড় রহস্য হলো ‘মন্ডার মিনিমাম’ (Maunder Minimum)। ১৬৪৫ থেকে ১৭১৫ সাল পর্যন্ত টানা ৭০ বছর সূর্যের বুক থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল সৌরকলঙ্ক বা সানস্পট। এর ফলে পৃথিবী জুড়ে নেমে এসেছিল ‘ছোট বরফ যুগ’। কেন সূর্য হঠাৎ ম্লান হয়ে গিয়েছিল, তা নিয়ে কয়েক শতাব্দী ধরে বিজ্ঞানীরা অন্ধকারে ছিলেন। অবশেষে কিংবদন্তি জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইয়োহানেস কেপলারের ১৬০৭ সালের একটি স্কেচ সেই জট খুলে দিল।
জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। ১৬০৭ সালে কেপলার একটি ‘ক্যামেরা অবস্কিউরা’ ব্যবহার করে সূর্যের ওপর একটি কালো দাগ লক্ষ্য করেছিলেন। শুরুতে তিনি ভেবেছিলেন সেটি বোধহয় বুধ গ্রহের চলন (Mercury Transit)। কিন্তু আধুনিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, সেটি ছিল আসলে একটি বিশাল সৌরকলঙ্ক সমষ্টি।
‘দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, কেপলারের সেই আঁকা ছবিগুলোই বলে দিচ্ছে মন্ডার মিনিমামে প্রবেশের ঠিক আগে সূর্যের আচরণ কেমন ছিল। গবেষকরা ‘স্পোরারের সূত্র’ ব্যবহার করে দেখেছেন, ১৬০৭ সালে সূর্য তার ১১ বছরের চক্রের একেবারে শেষ পর্যায়ে ছিল। সবথেকে অবাক করা বিষয় হলো, এই গভীর সুপ্তাবস্থায় যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সূর্য একদম স্বাভাবিক আচরণ করছিল। অর্থাৎ, কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই সূর্য যেকোনো সময় এমন দীর্ঘস্থায়ী ‘শাটডাউন’ মোডে চলে যেতে পারে। এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের সৌর ঝড় ও জলবায়ু পরিবর্তন বুঝতে বিজ্ঞানীদের নতুন দিশা দেখাচ্ছে।