বন্দি মুক্তির দাবি ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক! ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিল ইরান, ধোঁয়াশা অব্যাহত

মার্কিন নাগরিক ডেনা কারারির মুক্তি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড়সড় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প একে ইরানের ‘শুভেচ্ছার নিদর্শন’ হিসেবে অভিহিত করলেও, তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বন্দি বিনিময়ের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি ট্রাম্পের এই দাবিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি ও কৃতজ্ঞতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ঘোষণা করেন যে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ইরানে অন্যায়ভাবে আটক এক মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে ওই নাগরিককে মুক্ত করেছেন। এর জন্য তিনি ইরানকে ‘শুভেচ্ছার নিদর্শন’-এর জন্য ধন্যবাদ জানান এবং একই সঙ্গে বাইডেন প্রশাসনের সময়কালীন ব্যর্থতা নিয়ে কটাক্ষ করেন।
ইরানের কড়া অবস্থান ট্রাম্পের এই দাবির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বন্দি বিনিময়ের কোনো প্রমাণ নেই। সাম্প্রতিককালে ইরান কোনো মার্কিন নাগরিক বা গুপ্তচরকে মুক্তি দেয়নি। ইরান প্রশাসনের দাবি, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে বিভ্রান্ত হয়েই ট্রাম্প এমন মন্তব্য করেছেন। এমনকি, অতীতের নানা ঘটনার উল্লেখ করে ইরান জানিয়েছে, ট্রাম্পের এ ধরণের ‘ভুয়ো খবরে’ বিভ্রান্ত হওয়ার ইতিহাস দীর্ঘ।
আইনজীবীর মন্তব্য অন্যদিকে, মার্কিন নাগরিক ডেনা কারারির আইনজীবী জ্যারেড জেনসার তাঁর মক্কেলের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসাধারণ ও অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলেই ডেনা মুক্ত হয়েছেন এবং তিনি এখন নিরাপদে আমেরিকায় ফিরছেন।”
দ্বিধাবিভক্ত পরিস্থিতি একদিকে ট্রাম্পের দাবি এবং অন্যদিকে ইরানের অস্বীকার—এই দুই বিপরীতমুখী অবস্থানে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। হোয়াইট হাউস বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না আসায় বিষয়টি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান হয়তো বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে স্বীকার করতে চাইছে না, অথবা ট্রাম্পের দাবি ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে কোনো বড় অমিল রয়েছে।