কৃষ্ণসাগরে মারণ ড্রোন ও মিসাইল হামলা! ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষায় কড়া সতর্কতা জারি করল বিদেশ মন্ত্রক!

কৃষ্ণসাগর এবং সংলগ্ন সামুদ্রিক অঞ্চলে চলমান তীব্র সংঘাতের জেরে বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত কিংবা সেখানে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যেতে ইচ্ছুক ভারতীয় নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত কঠোর সতর্কতা জারি করল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। গত শনিবার প্রকাশিত এক সরকারি পরামর্শ বার্তায় জানানো হয়েছে, ওই অঞ্চলের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ধরণের ধারাবাহিক ও রক্তক্ষয়ী হামলাগুলিতে ইতিমধ্যেই পাঁচজন ভারতীয় নাবিক মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নাবিক ও সামুদ্রিক কর্মীদের জীবনরক্ষা এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এই বিশেষ সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলে কর্মসংস্থানের জন্য চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, যারা ওই অঞ্চলে কাজ করতে যাবেন, তাঁদের নিয়োগকারী সংস্থা, জাহাজের সুনির্দিষ্ট রুট, সংশ্লিষ্ট বন্দরে প্রবেশ, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সম্পর্কে আগে থেকেই বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা মান কঠোরভাবে বজায় রাখা হচ্ছে কি না, তাছাড়া চিকিৎসা সহায়তা, উদ্ধারকার্য, দেশে নিরাপদে ফেরানো এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়াও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা এবং তাদের ভ্রমণের সুনির্দিষ্ট সূচি জানিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় নাবিকদের জন্য ডিরেক্টরেট জেনারেল অব মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (DGMA), ভারতের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং প্রধান জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থার জারি করা সমস্ত ধরনের নিরাপত্তা নির্দেশিকা নিখুঁতভাবে মেনে চলার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যেকোনো ধরনের জরুরি কনস্যুলার সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিলে রাশিয়া ও ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সঙ্গে অবিলম্বে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রক। ২৬ জুলাই, ২০২৬ তারিখে জারি হওয়া এই নির্দেশিকা অবিলম্বে কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।