“আন্দোলন মানেই নির্বিচারে লাঠিচার্জ নয়!” ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে মোদী সরকারকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের!

দেশজুড়ে সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভের সময় পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ এবং ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে, কেবল আন্দোলন বা বিক্ষোভ চলছে বলেই সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে নির্বিচারে লাঠিচার্জ বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা যায় না।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগের অভিযোগ সংক্রান্ত একগুচ্ছ নতুন পিটিশনের শুনানির সময় এই কড়া পর্যবেক্ষণ দেয় শীর্ষ আদালত। এই মামলার অন্যতম আবেদনকারী একদল ছাত্র-ছাত্রী, যাঁদের অভিযোগ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ তাঁদের ওপর নির্মম মারধর চালিয়েছিল। পাশাপাশি, বিক্ষোভকারীদের একাংশের হিংসাত্মক আচরণে আক্রান্ত পুলিশকর্মীদের সুরক্ষা ও অধিকারের প্রসঙ্গটিও আদালতের গোচরে আনা হয়।
শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি জোরালোভাবে উল্লেখ করেন যে, সুস্থ গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে দেশের প্রতিটি নাগরিকের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সর্বদাই সুরক্ষিত থাকা উচিত। তরুণ প্রজন্মকে তাদের মৌলিক মতপ্রকাশের জন্য পর্যাপ্ত আইনি ও সামাজিক জায়গা দিতে হবে। তবে একই সঙ্গে আদালত এও সতর্ক করেছে যে, কোনো অবস্থাতেই যাতে দুষ্কৃতী বা অসামাজিক উপাদানগুলি এই ধরনের ছাত্র বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে দেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা হিংসা সৃষ্টি করতে না পারে। আদালতের সুনির্দিষ্ট মত, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের নামে পুলিশি বর্বরতা রোধ করতে সর্বস্তরে নির্দিষ্ট ও কঠোর প্রোটোকল বা নির্দেশিকা থাকা বাধ্যতামূলক।
অন্যদিকে, বেঞ্চের অন্যতম বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি শুনানিতে মন্তব্য করেন যে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যেমন সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ জরুরি, তেমনই দায়িত্ব পালনকারী পুলিশকর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। উভয় পক্ষেরই আহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় বলে মত প্রকাশ করে আদালত। এদিনের শুনানিতে বিহারের সিওয়ানে বিক্ষোভ দমনে পুলিশকর্তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি একে-৪৭ রাইফেল ব্যবহারের মতো অত্যন্ত মারাত্মক ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগও আদালতে তোলা হয়। সমস্ত পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র খতিয়ে দেখে, গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই সমস্ত নতুন পিটিশনগুলির ওপর বিস্তারিত শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই পরবর্তী দিন ধার্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট।