কৃষক বন্ধু প্রকল্পে বড় কড়াকড়ি! টাকা পেতে মানতেই হবে এই নতুন নিয়ম, না হলে বন্ধ হতে পারে অনুদান

রাজ্যের কৃষক পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা প্রদান আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করতে ‘কৃষক বন্ধু (নতুন)’ প্রকল্পের উপভোক্তাদের তথ্য ও নথি পুনরায় যাচাই বাধ্যতামূলক করল রাজ্য সরকার। এই মর্মে রাজ্যের কৃষি দফতরের পক্ষ থেকে একটি বিস্তারিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য, প্রকল্পের সমস্ত আর্থিক অনুদান যাতে শুধুমাত্র প্রকৃত এবং যোগ্য কৃষকদের হাতেই সঠিকভাবে পৌঁছায়।
জানা গিয়েছে, যোগ্য পিএম কিষাণ (PM KISAN) উপভোক্তাদের জন্য কেন্দ্র সরকারের অনুদানের পাশাপাশি রাজ্য সরকার বছরে অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর সেই কারণেই কৃষক বন্ধু প্রকল্পের উপভোক্তাদের রেকর্ড সেন্ট্রাল পিএম কিষাণ ডেটাবেসের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। অতীতে পূর্বতন সরকারের আমলে বহু অযোগ্য ব্যক্তি এই প্রকল্পের সুবিধা পেতেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। এই নতুন যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেমন ভুয়া উপভোক্তারা বাদ পড়বেন, তেমনই যে সমস্ত যোগ্য কৃষক এখনও পিএম কিষাণ প্রকল্পের আওতায় আসেননি, তাঁদেরও নতুন করে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
কৃষি দফতর জানিয়েছে, যে সমস্ত পুরনো উপভোক্তা এখনও নির্ধারিত ফর্ম জমা দিতে পারেননি, তাঁদের জন্য ফের আবেদন করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। প্রকৃত কৃষকদের কথা মাথায় রেখে আগস্ট মাসের পর থেকেও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া ও সময়সীমা বজায় রাখা হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ পূরণ করা ফর্ম এবং প্রয়োজনীয় নথি নিকটবর্তী ব্লক কৃষি আধিকারিকের (BDO) অফিসে জমা দিতে হবে। এরপর যথাযথ যাচাই পর্ব শেষে যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। বিস্তারিত তথ্য রাজ্য কৃষি দফতরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটেও পাওয়া যাবে।
আবেদনের এই প্রক্রিয়ায় ফর্মের সঙ্গে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—উপভোক্তার নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য, অ্যাকাউন্টের সঙ্গে লিংক থাকা আধার নম্বর, নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর আধার ও মোবাইল সংক্রান্ত তথ্য এবং জমির পরিমাণ ও জমির পরচার কপি। পাশাপাশি, যাঁদের মোবাইল নম্বর কৃষক বন্ধু ডেটাবেসে সঠিকভাবে নথিভুক্ত রয়েছে, তাঁরা চাইলে ঘরে বসেই এসএমএস-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি জমা দেওয়ার সুবিধা পাবেন। স্থানীয় ব্লক এবং পঞ্চায়েত স্তরেও এই বিষয়ে ব্যাপক প্রচার শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, কৃষক বন্ধু প্রকল্পে এক একর বা তার বেশি জমি থাকলে কৃষকরা বছরে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন, যা সাধারণত দুটি সমান কিস্তিতে দেওয়া হয়। এক একরের কম জমি থাকলেও এই প্রকল্পের সুবিধা মিল সে ক্ষেত্রে জমির অনুপাত অনুযায়ী টাকা প্রদান করা হয়। এছাড়া ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সি কোনো নথিভুক্ত কৃষকের আকস্মিক মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে এককালীন ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়ে থাকে। প্রার্থীরা অনলাইনের পাশাপাশি স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত বা কৃষি দফতরের অফিসে গিয়েও আবেদন করতে পারেন।