পুজোর আগেই সব শেষ! মাথায় হাত দিয়ে রাজপথে শিক্ষকরা, চাকরি বাঁচাতে করুণাময়ীতে ধুন্ধুমার

আসন্ন দুর্গাপুজোর আনন্দ যখন দোলা দিচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে, ঠিক তখনই চরম অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনাচ্ছে রাজ্যের শয়ে শয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকার পরিবারে। পুজোর মুখেই চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকদের চাকরি হারানোর উপক্রম হওয়ায় কলকাতার সল্টলেক চত্বর উত্তাল হয়ে উঠেছে। চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে এবং বরখাস্তের নোটিশের প্রতিবাদে সোমবার রাজপথে নেমে তীব্র বিক্ষোভ দেখালেন আইসিটি (ICT) প্রকল্পের চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষক-শিক্ষিকারা। করুণাময়ী থেকে বিকাশ ভবন অভিমুখে এই মহামিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে তীব্র ধস্তাধস্তি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

আন্দোলনকারীদের সূত্রে জানা গেছে, আইসিটি অ্যাট স্কুল প্রকল্পের ষষ্ঠ ও সপ্তম ফেজে নিযুক্ত প্রায় ১,৪০০ জন শিক্ষককে ইতিমধ্যেই নিয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তাঁদের চুক্তি আর পুনর্নবীকরণ করা হবে না। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ও ৯ অক্টোবর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ফুরোলেই নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে, যার ফলে রাতারাতি চাকরি হারাতে পারেন হাজার হাজার শিক্ষক। এদিন প্রায় ৩ হাজার ৭১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ, যেখানে উৎসবের মরশুমে সবাই বোনাস ও আনন্দে মেতে থাকে, সেখানে তাঁদের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে চাকরি কেড়ে নেওয়ার পাঁয়তারা চলছে।

পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে বিকাশ ভবনে ঢোকার চেষ্টা করলে করুণাময়ী মেট্রো স্টেশনের সামনে তাঁদের আটকে দেওয়া হয়। এর পরেই রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা। প্রশ্ন উঠেছে, বছরের পর বছর ধরে সমানভাবে শিক্ষকতা করার পরেও কেন বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে তাঁদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে? অন্যদিকে, সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের এই দীর্ঘপ্রথার অবসান ঘটিয়ে সরাসরি সরকারি ব্যবস্থায় নিয়োগের দায়িত্ব নেওয়া হোক। কিন্তু বিকল্প কোনো স্থায়ী বন্দোবস্ত না করেই এই আকস্মিক পদক্ষেপে পুজোর আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে রাজ্যের চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের।