রাস্তা চওড়া করার কাজ শুরু হতেই রণক্ষেত্র উজ্জয়িনী! শাহী মসজিদ ভাঙা কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার, নামল র্যাফ

মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী শহরে রাস্তা চওড়া করার জন্য ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একটি অংশ সরানোর কাজ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সোমবার সকাল থেকে পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে মসজিদের কাছে জড়ো হওয়া সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের তুমুল সংঘর্ষ বাধে। আন্দোলনকারীদের একটি অংশের বিরুদ্ধে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় পুলিশ বাধ্য হয়ে দফায় দফায় কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়। বর্তমান থমথমে পরিস্থিতিতে গোটা এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৮ সালের সিংহস্থ মেলার আগে উজ্জয়িনীর পরিকাঠামো আমূল বদলে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই শহরের প্রধান রাস্তাগুলি চওড়া করার কাজ চলছে। পুরো প্রজেক্টে মোট ২৭২টি নির্মাণকে রাস্তার প্রসারণের ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে শাহী মসজিদটির একটি অংশও প্রস্তাবিত সীমার মধ্যে পড়ে। মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি একটি বহু পুরনো ওয়াকফ সম্পত্তি এবং স্থানীয়দের একাংশের মতে এই মসজিদটির ইতিহাস প্রায় ৬০০ বছরেরও বেশি পুরনো। রাস্তা চওড়া করার এই কাজের জেরে মসজিদের প্রার্থনাকক্ষের একাংশ এবং মিনারসহ বেশ কিছু প্রাচীন কাঠামো ভেঙে ফেলার প্রস্তাব রয়েছে, যা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে পরিচালন কমিটি।
ইতিহাস এবং ধর্মীয় আবেগের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নেয় মসজিদ কমিটি। ইন্দোরের মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ গত সেপ্টেম্বর মাসে তাঁদের আবেদন খারিজ করে দিয়ে প্রশাসনকে রাস্তা চওড়ার কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়। আদালতের শুনানিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে সিংহস্থ মেলা এবং অন্যান্য বড় ধর্মীয় উৎসবে বিপুল জনসমাগম ও যানজট নিরসনের জন্য রাস্তা প্রশস্ত করা অত্যন্ত জরুরি। এদিকে, সোমবার এই সংক্রান্ত মামলার ইন্দোরের ডিভিশন বেঞ্চে ওঠার কথা থাকলেও তার আগেই সকালে ভাঙার কাজ শুরু হওয়ায় নতুন করে অশান্তি ছড়ায়। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ি মন্তব্য করেছেন যে রাস্তা চওড়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের আরও অনেক বেশি সংবেদনশীল হওয়া উচিত ছিল। সোমবারের বড় ধরনের সংঘর্ষের পর অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোটা এলাকায় নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।