“ডিম খাচ্ছে না তো কুণালই!” ইকো পার্কের প্রাতঃভ্রমণে এসেই সপাটে আক্রমণ শানালেন বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

সপ্তাহের শুরুতেই প্রাতঃভ্রমণের মেজাজে ইকো পার্কে এসে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তাপ ছড়ালেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। কুণাল ঘোষের বারবার আক্রান্ত হওয়া থেকে শুরু করে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)-এর সংঘর্ষ এবং বোলপুরে বিজেপি নেতার রহস্যমৃত্যু—বিভিন্ন জ্বলন্ত ইস্যু নিয়ে নিজের চেনা ছন্দে চাঁচাছোলা আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের উপর সম্প্রতি ঘটে চলা একের পর এক হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে তীব্র কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “কুণাল ঘোষ যত ভাষণ দেবেন, মানুষের রাগ তত বাড়বে। বাকি নেতারা তো ডিম খাচ্ছে না, উনিই বারবার খাচ্ছেন কেন? একটু সাবধানে থাকুন। মানুষ যে রায় দিয়েছে, সেটা মেনে নিন। আপনি বেলেঘাটায় জিতেছেন, সেখানেই যদি পাবলিক আপনাকে ডিম মারে, তবে আপনি যাবেন কোথায়?” তিনি আরও দাবি করেন যে, যখন মানুষ অস্তিত্ব সংকটে ভোগে, তখনই এই ধরনের উল্টোপাল্টা কথা বলে এবং মিডিয়াই তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
অন্যদিকে, SRFTI-এর সাম্প্রতিক গোলমাল প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন যে, দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও দেশবিরোধী শক্তিগুলো বাংলার মাটিতে সক্রিয় রয়েছে এবং আগের সরকারের ছত্রছায়ায় তারা বেঁচে ছিল। এখন তারা একে একে এক্সপোজ হয়ে যাচ্ছে। দেশের সংস্কৃতি ও পরম্পরা বিরোধী এই কার্যকলাপ মানুষ আর বরদাস্ত করবে না। নকশাল আমলের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সেই সময় মহাপুরুষদের ছবিতে কালি লাগানো হতো, মূর্তি ভাঙা হতো; আজ তাদেরই উত্তরসূরিরা এই কাণ্ড ঘটাচ্ছে। এছাড়া বোলপুরে বিজেপি বুথ সভাপতি চন্দন ভোলার মৃত্যুর ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় বলে অভিহিত করে তিনি জানান যে, স্বরাষ্ট্র দফতর পুরো বিষয়টি দেখছে এবং এর শেষ দেখে ছাড়বে দল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন রাজনৈতিক কৌশল এবং সিপিএমের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সমীকরণ প্রসঙ্গে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “মমতার উপরেই তো কেউ ভরসা করে না। উনি মাসে মাসে ভরসা পাল্টান। ওনার এখন খড়কুটো সম্বল।” হরিশদ্রেপুরের ক্লাবে দুষ্কৃতী হামলা প্রসঙ্গে বিজেপির দিকে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ৫০ বছর ধরে বাংলায় যারা হিংসার রাজনীতি করে এসেছে, তাদের খুঁজে বের করতে কিছুটা সময় লাগবে। এছাড়া ব্যাঙ্ক ধর্মঘট স্থগিত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কথায় কথায় ধর্মঘট করা একটি ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। সবমিলিয়ে, সোমবার সকালেই দিলীপ ঘোষের এই ঝোড়ো মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।