সুজিত বসুর জমানা শেষ! জেলবন্দি মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে এবার বদলে গেল শ্রীভূমি স্পোর্টিংয়ের পুজো কমিটি

কলকাতার নামজাদা ও জমকালো দুর্গাপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম হল লেকটাউনের শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের পুজো। গত কয়েক বছর ধরে প্রতিবারই নান্দনিক মণ্ডপ ও চোখধাঁধানো আলোর রোশনাইয়ে কলকাতার পুজোর বাজারে প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এই পুজো। তবে এ বছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং প্রশাসনিক পালাবদলের ঢেউ এসে লেগেছে এই পুজো কমিটিতেও। দীর্ঘদিনের কর্ণধার তথা প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বর্তমানে জেলবন্দি। ফলে তাঁকে ছাড়াই এবার শ্রীভূমি স্পোর্টিংয়ের দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

একসময় শ্রীভূমির পুজো মানেই ছিল ভিআইপিদের যাতায়াত এবং প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর একক নিয়ন্ত্রণ। ডিজনি ল্যান্ড, ভাটিকান সিটি কিংবা বুর্জ খলিফার মতো বিশালাকার ও ব্যয়বহুল স্থাপত্যের আদলে মণ্ডপ তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিত এই ক্লাব। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জেরে পুজো কমিটিতে বড়সড় রদবদল ঘটেছে। শ্রীভূমি স্পোর্টিংয়ের নতুন পুজো কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বিজেপির স্টেট এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য কণক দেবনাথ। পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন বাবুয়া চট্টোপাধ্যায়। নতুন কমিটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক সমীকরণ বদলালেও জাঁকজমক ও জৌলুসে বিন্দুমাত্র খামতি থাকবে না। তবে পুজোর চরিত্র ও নিয়মে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে প্রতিমার সাজসজ্জার ক্ষেত্রে। অতীতে প্রতিমাকে যে বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না পরানো হতো, এবার তা আর করা হবে না। এই প্রসঙ্গে সাধারণ সম্পাদক বাবুয়া চট্টোপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, এতদিন এটি নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির পুজোয় পরিণত হয়েছিল। গয়নার নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে পাড়ার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল এবং একটিমাত্র পরিবার ছাড়া কেউ ঠিকমতো অঞ্জলি পর্যন্ত দিতে পারত না। সেই একনায়কতন্ত্র ভেঙে এবার পুজোকে পুরোপুরি সর্বজনীন রূপ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিমা থেকে অতিরিক্ত সোনার আড়ম্বর বাদ গেলেও মণ্ডপসজ্জার ক্ষেত্রে থাকছে বিরাট চমক। এবছর শ্রীভূমির জমকালো মণ্ডপ সেজে উঠছে রাজস্থানের বিখ্যাত ‘হাওয়া মহল’-এর আদলে। নতুন কমিটির এই সাহসী পদক্ষেপ এবং থিম দর্শনার্থীদের মনে কতটা দাগ কাটে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।