গঙ্গাসাগরে বঙ্গ বিজেপির সভাপতির মহা পুণ্যস্নান! দ্বিতীয় দিনের সফরে নীতিন নবীনের একাধিক হাই-ভোল্টেজ কর্মসূচি

বঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে সোমবার গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নান সারলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। গঙ্গা ও সাগরের মিলনস্থলে এসে নদী ও সাগরের পবিত্র জলে ডুব দিয়ে তিনি প্রার্থনা করেন। এরপর ঐতিহ্য মেনে গঙ্গা বন্দনা করে তিনি সোজা পৌঁছে যান ঐতিহাসিক কপিলমুনির আশ্রমে। সেখানে একঝাঁক শীর্ষস্থানীয় দলীয় নেতাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নিয়মনিষ্ঠার সঙ্গে পুজো দেন এবং দেশ ও রাজ্যের কল্যাণে প্রার্থনা করেন।
এদিনের এই পুণ্যস্নান ও পুজো দেওয়ার কর্মসূচিতে নীতিন নবীনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনশল, বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং স্থানীয় জেলা নেতারা। এছাড়া সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা সহ জয়নগর এবং মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির জেলা সভাপতিরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। গঙ্গাসাগরের মতো পবিত্র তীর্থক্ষেত্রে শীর্ষ নেতার এই উপস্থিতি এবং স্থানীয় নেতৃত্ব ও দলীয় কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এক নতুন উত্তাপ তৈরি করেছে।
গঙ্গাসাগরে পৌঁছেই প্রথমে স্নানঘাট পরিদর্শন করেন নীতিন নবীন। সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতি এবং পুণ্যার্থীদের যাতায়াত ও ব্যবস্থাপনার দিকগুলি তিনি ঘুরে দেখেন। তাঁর এই পুণ্যস্নান ঘিরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দারুণ উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। গঙ্গাসাগর পর্ব শেষ করে তাঁর সোজা পানিহাটিতে যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁর যোগদানের কথা রয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
পানিহাটির কর্মসূচি শেষ করে সন্ধ্যার দিকে কলকাতায় ফেরার কথা রয়েছে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির। কলকাতায় যুব মোর্চার একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। সমস্ত রাজনৈতিক কর্মসূচি সম্পন্ন করে কলকাতা থেকেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি। উল্লেখ্য, রাজ্যে বিজেপি নতুন করে সংগঠন শক্তিশালী করার পর এবং মহিলা ও যুব মোর্চা সহ সাতটি সাংগঠনিক জেলায় বড় ধরনের রদবদলের পরই নবীনের এটি প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সফর। ফলে জয়নগর ও মথুরাপুর থেকে শুরু করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সার্বিক রাজনৈতিক সমীকরণে তাঁর এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।