নেপাল বন্যা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি বেজিংয়ের! ‘আমরাও তো সর্বস্বান্ত!’ চীনের সাফাইয়ে চরম চাঞ্চল্য!

নেপালে সম্প্রতি হঠাৎ করে নেমে আসা প্রলয়ংকারী বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে ভারত ও নেপালের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এবার পুরো ঘটনার দায় নিয়ে এক বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর দাবি পেশ করেছে চিন। বেজিংয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নেপালের এই আকস্মিক বন্যার জন্য চিন কোনোভাবেই দায়ী নয়; বরং এর মূল কারণ হলো স্বয়ং নেপাল ও সেখানে আঘাত হানামাটি কাঁপানো ভূমিকম্প। চিনের দূতাবাস থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে দাবি করা হয়েছে যে, নেপালে বিধ্বংসী ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়ার ফলেই এই মারাত্মক বিপর্যয় নেমে এসেছে, তাই চিনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো বা আগাম তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য।
চিনা দূতাবাসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার নেপালে যে তীব্র মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, তার ফলে আকস্মিক ধস বা ল্যান্ডস্লাইডের ঘটনা ঘটে এবং এর জেরে চিনের ভেতরে লান্দে নদীর স্বাভাবিক জলপ্রবাহ পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে নদীর গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে যায়। এর ফলে চিনের গ্যিরং প্রদেশেও ভয়াবহ ধ্বংসলীলা ও তান্ডব চলেছে। চিনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই আকস্মিক জলস্ফীতি ও বন্যায় চিনের প্রায় আড়াইশতাধিক নাগরিক নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন এবং তাঁদের সন্ধানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি, এই প্রলয়ে চিনের সীমান্তবর্তী এলাকায় শত শত গাড়ি এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল রূপ ধারণ করেছে যে স্বয়ং চিনের রাষ্ট্রপতি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে উদ্ধার ও ত্রাণের সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য বিশেষ সেনাদল মোতায়েন করেছেন।
চিনের পক্ষ থেকে আরও জোরালো ভাষায় বলা হয়েছে যে, এই বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতিতে একে অপরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দোষারোপ বা ভুল তথ্য প্রচার করার সময় এটা নয়। বেজিংয়ের সাফাই, চিন সম্পর্কে অসত্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে দুর্গত মানুষের কোনো উপকার হবে না; বরং এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বের এবং প্রতিবেশী দেশগুলির উচিত সম্মিলিতভাবে হাত মিলিয়ে উদ্ধারকাজে মনোযোগ দেওয়া।
উল্লেখ্য, এর আগে নেপালের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ই-কাংশিপুর’-এর একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, তিব্বতের গ্যিরংয়ে প্রথম কম্পন অনুভূত হওয়ার পর তুষারধ্বসের জেরে লেকের বাঁধ ভেঙে ভটেকোশী নদীতে তীব্র জলের ঢল নামে। এই সর্বগ্রাসী বন্যায় নেপালে ইতিমধ্যেই ১৭০ জনেরও বেশি মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং সহস্রাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ভূত এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী নিজে দুর্গত এলাকায় উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি তদারকি করছেন এবং নেপালের সংসদীয় বৈঠকে বেশ কয়েকজন সাংসদ এই বিপর্যয়ের জন্য চিনের পূর্ব সতর্কতার অভাবকেই প্রধানত দায়ী করেছিলেন।