অন্যের সঙ্গে কথা বলাই কাল! দিল্লির বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ঘরে ঢুকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন জিম ট্রেনারের

অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া চরম ক্ষোভ এবং জিদের বশে এক তরুণী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল এক জিম ট্রেনারের বিরুদ্ধে। দিল্লির তিলক নগরে নিজ বাসভবনে খুন হয়েছেন ২১ বছরের মুসকান, যিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্কুল অফ ওপেন লার্নিং’-এর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তথা মডেল ছিলেন। তাঁর শরীরে একাধিক গভীর ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ২৬ বছর বয়সী জিম ট্রেনার ইমরান পলাতক রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত মুসকানের সঙ্গে গত প্রায় দেড় বছর ধরে পরিচয় ছিল ইমরানের। তবে সম্প্রতি অন্য এক যুবকের সঙ্গে মুসকানের কথা বলা বা মেলামেশা পছন্দ করত না সে। এই কারণে গত প্রায় দু’মাস ধরেই তরুণীর ওপর মনে মনে অসন্তুষ্ট ছিল অভিযুক্ত। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই ক্ষোভের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড।

ঘটনার ভয়ংকর ক্রম ও তদন্তের দিকগুলি

পুলিশের প্রাপ্ত সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, বুধবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিট নাগাদ অভিযুক্ত ইমরানকে মুসকানের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখা যায়। ঘটনার সময় বাড়িতে একা ছিলেন তরুণী। অনুমান করা হচ্ছে, সেই সময় দু’জনের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এর পরই ঘরে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে মুসকানের ওপর উপর্যুপরি আক্রমণ চালিয়ে চম্পট দেয় ইমরান। পরে বাড়ির পরিচারিকা দোতলায় মুসকানকে রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পরিবারকে খবর দেন। এরপর সন্ধ্যা ৭টা ২৪ মিনিটে তিলক নগর থানায় পিসিআর কল যায়। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা মুসকানকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের মাত্র কয়েক দিন আগে, গত ২০ আগস্ট তারা একটি হাসপাতালেও দেখা করেছিলেন। এমনকি মুসকানের এক বন্ধু আমান আগেই দাবি করেছিলেন যে ইমরান দীর্ঘদিন ধরে তরুণীকে উত্যক্ত করত এবং তাঁর পিছু ধাওয়া করত। পরিবারের কাছে এই হয়রানির কথা জানানো হলেও থানায় কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি

নিহতের ভাইয়ের বয়ানের ভিত্তিতে অভিযুক্ত আকিব ওরফে ইমরানের বিরুদ্ধেই খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পলাতক জিম ট্রেনারকে পাকড়াও করতে ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫টি বিশেষ দল গঠন করেছে দিল্লি পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্ভাব্য জায়গায় চলছে তল্লাশি অভিযান। ঠিক কী কারণে এই বিবাদের সূত্রপাত এবং নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।