কাশির সিরাপে মৃত্যু ২০ শিশুর! লাইসেন্স বাতিল হচ্ছে Pharma Company-র, গ্রেফতার মালিক

মধ্যপ্রদেশে ‘কোল্ড্র‌িফ’ কফ সিরাপ খেয়ে অন্তত ২০ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। তামিলনাড়ু ভিত্তিক যে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি এই সিরাপ তৈরি করত, সেই সংস্থার মালিক এস রঙ্গনাথনকে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করেছে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ।

এই ঘটনার জেরে তামিলনাড়ুর স্বাস্থ্যমন্ত্রী মা সুব্রমণিয়ম বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, আপাতত ওই কোম্পানির লাইসেন্স স্থগিত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। তবে আগামী দুই দিনের মধ্যেই পরবর্তী তদন্তের ভিত্তিতে লাইসেন্সটি স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে।

মধ্যপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেন্দ্র শুক্লার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই কফ সিরাপ পানের কারণে ২০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৫ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মৃত শিশুদের মধ্যে ১৭ জন ছিঁন্দওয়ারা জেলার, ২ জন করে শিশু বেতুল ও পাণ্ডুরনা জেলার বাসিন্দা ছিল।

মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এই ঘটনা নিয়ে সোমবার একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক করেন। তিনি দুই জন ড্রাগ ইনস্পেক্টর এবং খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের উপ-পরিচালককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, এক জন ড্রাগ কন্ট্রোলারকেও বদলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অবিলম্বে ‘কোল্ড্র‌িফ’ সিরাপের বিক্রি বন্ধ করতে হবে এবং দোকানে থাকা সমস্ত স্টক বাজেয়াপ্ত করতে হবে। এছাড়াও, ছিঁন্দওয়ারা এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে যে পরিবারগুলি এই সিরাপ সেবন করেছে, তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওষুধটি উদ্ধার করার জন্য একটি বৃহত্তর অভিযান চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

জেলবন্দী ডাক্তারের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ:

এদিকে, মঙ্গলবার ছিঁন্দওয়ারা জেলায় চিকিৎসকদের একটি দল এবং ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (IMA)-এর প্রতিনিধিরা বিক্ষোভ দেখান। এই কফ সিরাপ কাণ্ডে সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া সরকারি ডাক্তার প্রবীণ সোনির মুক্তি দাবি করছেন তাঁরা। পরাসিয়া সিভিল হাসপাতালের সরকারি শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ সোনিকে প্রথমে সাসপেন্ড করা হয়েছিল এবং পরে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই চিকিৎসকরা পথে নেমেছেন।