কালীঘাটে হাইভোল্টেজ বৈঠক! ইভিএম খোলার ঠিক আগে ভবানীপুর নিয়ে কী ‘মাস্টারপ্ল্যান’ মমতার?

৪ মে, সোমবার বাংলার রাজনীতির ভাগ্য নির্ধারণ। ঠিক তার আগের দিন, রবিবার বিকেলে যখন গোটা রাজ্য উত্তেজনায় ফুটছে, তখন খাস কালীঘাটে জরুরি বৈঠকে বসলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট গণনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে এই বৈঠককে ঘিরে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক জল্পনা। সূত্রের খবর, নেত্রীর নজরে এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ— তাঁর নিজের কেন্দ্র হাইভোল্টেজ ভবানীপুর।

কালীঘাটে রুদ্ধদ্বার বৈঠক রবিবার দুপুর থেকেই কালীঘাটের অন্দরমহলে তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ভবানীপুর কেন্দ্রের নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের নিয়ে এই বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইভিএম-এ ঠিক কী পরিমাণ জনমত প্রতিফলিত হতে পারে, গণনাকেন্দ্রে এজেন্টদের ভূমিকা কী হবে এবং ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে— মূলত এই বিষয়গুলো নিয়েই দীর্ঘ আলোচনা চলে।

ভবানীপুর নিয়ে বিশেষ সতর্কতা এবারের নির্বাচনে ভবানীপুর আসনটি নিয়ে বাড়তি সতর্ক ঘাসফুল শিবির। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের হ্যাটট্রিকের হাতছানি, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের জোরদার টক্কর। নিজের খাসতালুকে জয়ের ব্যবধান কতটা হতে পারে, সেই অঙ্কই কষছেন তৃণমূল নেত্রী। সূত্রের খবর, গণনা প্রক্রিয়ায় যাতে বিন্দুমাত্র ত্রুটি না থাকে, সে বিষয়ে দলের কাউন্টিং এজেন্টদের বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মনস্তাত্ত্বিক লড়াই ও রণকৌশল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণনার আগের রাতে এই ধরণের বৈঠক কেবল রণকৌশল নির্ধারণ নয়, বরং দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখারও একটি প্রক্রিয়া। বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধীরা যখন জয়ের দাবি নিয়ে সরব, তখন শান্ত মাথায় ঠান্ডা ঘরে বসে শেষ মুহূর্তের ‘চেকমেট’ সাজাতে ব্যস্ত মুখ্যমন্ত্রী।

প্রস্তুত বাংলা আগামীকাল সকাল ৮টা থেকেই শুরু হবে ব্যালট যুদ্ধ। কালীঘাটের এই জরুরি বৈঠকের নির্যাস আগামীকাল ইভিএম খোলার পর কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। ভবানীপুরের সিংহাসন কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দখলেই থাকবে? নাকি লুকিয়ে আছে অন্য কোনও সমীকরণ? উত্তর মিলবে আর কয়েক ঘণ্টা পরেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy