বঙ্গ রাজনীতির অজাতশত্রু এবং তৃণমূলের অত্যন্ত বিশ্বস্ত সৈনিক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবার নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে। সোমবার ভরদুপুরে কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন রাজ্যের এই বর্ষীয়ান মন্ত্রী।
কালীঘাটে পুজো দিয়ে যাত্রা শুরু: এদিন সকালে রাজনীতির ব্যস্ততা শুরুর আগে প্রথা মেনে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দেন শোভনদেব। সঙ্গে ছিলেন তাঁর পুত্র সায়নদেব চট্টোপাধ্যায় ও পরিবারের সদস্যরা। পুজো সেরে আশীর্বাদ নিয়ে তিনি সরাসরি চলে যান হাজরা মোড়ে, যেখান থেকে শুরু হয় তৃণমূলের বর্ণময় মিছিল।
মিছিলে জনসমুদ্র ও শক্তিপ্রদর্শন: দুপুর ১২টার পর হাজরা মোড় থেকে কয়েক হাজার মানুষের মিছিল এগোতে থাকে আলিপুরের দিকে। রোদের তেজ উপেক্ষা করেই স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে দক্ষিণ কলকাতার রাজপথ। হাতে দলীয় পতাকা আর বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে বালিগঞ্জের এই লড়াইয়ে নিজেদের জমি যে কতটা শক্ত, তা আজ বুঝিয়ে দিল ঘাসফুল শিবির।
সুব্রতর উত্তরসূরি হিসেবে বড় দায়িত্ব: ২০২১-এ ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে জিতেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য আসন ছেড়ে দিয়ে নজির গড়েছিলেন শোভনদেব। পরে খড়দহ উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধানসভায় ফেরেন তিনি। কিন্তু এবার তাঁর কাঁধে গুরুদায়িত্ব— প্রয়াত জননেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিধন্য বালিগঞ্জ কেন্দ্রটি পুনরুদ্ধার করা। বাবুল সুপ্রিয়র সময়ে যে অসন্তোষের গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির শোভনদেবকে দিয়ে সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতে চাইছে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব।
মনোনয়ন শেষে আত্মবিশ্বাসী শোভনদেব: নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর তিনি বলেন:
“বালিগঞ্জের মানুষের মধ্যে যে উদ্দীপনা দেখছি, তাতে আমি নিশ্চিত যে দলনেত্রীর ভরসার মর্যাদা দিতে পারব। মানুষের বিপুল সমর্থন নিয়েই আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।”
সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের সমসাময়িক সহযোদ্ধা হিসেবে বালিগঞ্জের মিশ্র জনবিন্যাসে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় কতটা ম্যাজিক দেখাতে পারেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।





