রাজ্য পুলিশের হাত থেকে তদন্ত নিল এনআইএ! মালদহ কাণ্ডে বড় ধাক্কা খেল নবান্ন। বিকল্প

মালদহে সাত বিচারককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার তদন্তভার সরাসরি কেন্দ্রীয় সংস্থা NIA (ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি)-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে এই নক্কারজনক ঘটনার তদন্তে এক নতুন মোড় এল।

সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ

সোমবার সুপ্রিম কোর্টে মালদহ কাণ্ডের রিপোর্ট জমা দেয় রাজ্য সরকার। সেই রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ঘটনায় মূল চক্রী মোফাক্কেরুল ইসলাম এবং শাহজাহান আলি সহ মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু শীর্ষ আদালত এই তদন্তে আরও গভীর ষড়যন্ত্রের আঁচ পেয়ে রাজ্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে যে, ধৃতদের অবিলম্বে NIA-র হেফাজতে পাঠাতে হবে। সেই সঙ্গে মামলার যাবতীয় নথি ও তথ্যপ্রমাণও হস্তান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কী ঘটেছিল মালদহে?

গত সপ্তাহে মালদহ আদালত চত্বরে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একদল দুষ্কৃতী পরিকল্পিতভাবে সাতজন বিচারককে ঘিরে ধরে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখে। অভিযোগ, বিচারকরা আদালতের কাজ শুরু করতেই তাঁদের ওপর চড়াও হয় উন্মত্ত জনতা। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে এই তাণ্ডব, যার ফলে বিচারকদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। স্থানীয় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।

কেন NIA-র হাতে তদন্ত?

সুপ্রিম কোর্ট মনে করছে, বিচারকদের মতো সাংবিধানিক পদাধিকারীদের ওপর এমন পরিকল্পিত আক্রমণ কোনো সাধারণ অপরাধ নয়। এর নেপথ্যে বৃহত্তর কোনো নাশকতা বা ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। তদন্তের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই রাজ্য পুলিশের হাত থেকে দায়িত্ব কেড়ে নিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দেওয়া হলো।

অস্বস্তিতে রাজ্য সরকার

রাজ্য সরকারের পেশ করা রিপোর্টে ধৃতদের তালিকা দেওয়া হলেও, শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশ নবান্নের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিচারকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি জাতীয় স্তরে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।