কানাডায় দক্ষিণ এশীয় গ্যাংয়ের ত্রাস, ১৬ ভারতীয়কে গ্রেপ্তারে বড় সাফল্য ক্যালগারি পুলিশের

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের ক্যালগারি পুলিশ দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী অপরাধী চক্রকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এই সফল অভিযানে ১৬ জন ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে মোট ৫৬টি গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডায় গ্যাং কালচার ও সহিংসতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পুলিশের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ক্যালগারি পুলিশের ভাষ্যমতে, ধৃতরা মূলত চাঁদাবাজি, গুলিবর্ষণ, সহিংস কার্যকলাপ এবং অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। ভুক্তভোগীদের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের পাশাপাশি, তারা অপহরণের ষড়যন্ত্র ও অপরাধমূলক প্রমাণ নষ্ট করার মতো ঘৃণ্য কাজের সঙ্গেও যুক্ত ছিল। যদিও তদন্তে এই চক্রটির সাথে লরেন্স বিষ্ণোই, গোল্ডি ব্রার বা রোহিত গোদারা নেটওয়ার্কের কোনো সরাসরি সংযোগ আছে কি না, তা নিয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি, তবে তদন্তের গভীরতা থেকে সন্দেহ বাড়ছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০ বছর বয়সী রভজ্যোত তুরের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে। এক ট্রাফিক চেকের সময় তার কাছে থাকা নিষিদ্ধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক উদ্ধার হয়। এই সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা একের পর এক অপরাধীর নাগাল পেতে শুরু করেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের অনেকেই ছদ্মনাম ব্যবহার করায় তাদের শনাক্ত করা চ্যালেঞ্জিং ছিল।

২০২৬ সালের মার্চের গুলিবর্ষণের ঘটনায় জারমানজিৎ সিং, জাসকরণ সিং এবং করণবীর সিংয়ের মতো অভিযুক্তদের নাম উঠে এসেছে, যার মধ্যে জারমানজিৎ বর্তমানে পলাতক। এদিকে, প্রমাণ নষ্ট করতে গাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগে আমানদীপ সিং, অনুরাগ সিধু এবং ইশানদীপ সিংয়ের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগের মামলা দায়ের হয়েছে। মে মাসে শুরু হওয়া চাঁদাবাজির তদন্তে আমানদীপ মালহি এবং সন্দীপ সিংয়ের গ্রেপ্তারের ঘটনাও বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তদন্তে একটি চাঞ্চল্যকর অপহরণের ষড়যন্ত্রও উন্মোচিত হয়েছে, যেখানে দক্ষ গৌতম, আকাশদীপ সিং, গগনদীপ সিং, প্রদীপ সিং এবং তারানবীর সিং অভিযুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে বন্দুকের মুখে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা ছিল। এ ছাড়াও গুরকরণ ধালিওয়াল নামে আরও এক অভিযুক্তকে বেপরোয়া গুলিবর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ক্যালগারি পুলিশ সার্ভিস স্পষ্ট করেছে যে, এই নেটওয়ার্কের মূল অর্থ ও অস্ত্রের উৎস খুঁজতেই এখন জোর তল্লাশি চলছে। জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে এবং কোনো তথ্য থাকলে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে এই কঠোর অভিযান কানাডায় বসবাসরত প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।