উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর সংলগ্ন জামানিয়া এলাকায় শোকের ছায়া। ভিনরাজ্য থেকে কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে চলন্ত ট্রেনের মধ্যেই এক যুবককে গুলি করে খুন করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। শুধু হত্যাই নয়, নৃশংসতার সীমা ছাড়িয়ে হামলাকারীরা ওই যুবকের দেহ চলন্ত ট্রেন থেকে বাইরে ছুড়ে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ। এই ভয়াবহ ঘটনায় রেলযাত্রী থেকে শুরু করে স্থানীয় এলাকা—সর্বত্রই তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহত যুবকের নাম মাংরু চৌধুরী (৩৪), যিনি জামানিয়া তহসিলের চৌধুরী মহল্লার বাসিন্দা। পারিবারিক আর্থিক অনটন মেটাতে গত এপ্রিল মাসেই তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোরে গিয়েছিলেন। সেখানে বোনের বাড়িতে থেকে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে সেখানে তাঁর মন টেকেনি। গত ৮ই মে সন্ধ্যায় স্ত্রীকে ফোনে মাংরু জানিয়েছিলেন, তাঁর শরীরটা ভালো যাচ্ছে না এবং তিনি দ্রুত বাড়ি ফিরে আসছেন। কে জানত, সেই ফেরা আর জীবিত অবস্থায় হবে না।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার সকালে। দীনদয়াল উপাধ্যায় রেল স্টেশন থেকে তাদিঘাটগামী একটি প্যাসেঞ্জার ট্রেনে চেপে নিজের গ্রামে ফিরছিলেন মাংরু। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ট্রেনটি যখন চন্দৌলি জেলার কুচমান ও সাকলডিহা রেল স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায়, তখন ট্রেনের মধ্যেই দুই যুবকের সঙ্গে মাংরুর তুমুল বচসা শুরু হয়। ঝগড়া চলাকালীন আচমকাই এক আততায়ী পিস্তল বের করে সরাসরি মাংরুর কপাল লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ট্রেনের কামরার মধ্যেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি।
গুলির শব্দে কামরার যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। অভিযোগ উঠেছে, প্রমাণ লোপাট করতে ঘাতকরা মাংরুর দেহটি চলন্ত ট্রেন থেকে রেললাইনের ধারে ফেলে দেয়। এরপর ট্রেনটি কিছুটা ধীর গতিতে চলার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্তরা এলাকা থেকে চম্পট দেয়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দিলদারনগর জিআরপি (GRP)। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
পেশায় মৎস্যজীবী মাংরু ছিলেন তাঁর তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে সবার ছোট। তাঁর মৃত্যুতে স্ত্রী ও দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। পুলিশ ট্রেনের যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং আততায়ীদের স্কেচ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। চলন্ত ট্রেনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে এই ঘটনায় বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।





