নবান্নে শুভেন্দুর প্রথম ক্যাবিনেটেই ‘ধামাকা’! সরকারি চাকরিতে ৫ বছরের ছাড়, কপাল খুলল যুবসমাজের

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে সোমবার এক নতুন সূর্যোদয় ঘটল। নবান্নের ১৪ তলায় নিজের নির্দিষ্ট কক্ষে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক সারলেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের যাত্রা শুরু হতেই প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। এদিন ক্যাবিনেট বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী যে একগুচ্ছ যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন, তা এক কথায় নজিরবিহীন। কর্মসংস্থান থেকে জাতীয় নিরাপত্তা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রথম দিনেই নিজের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিলেন শুভেন্দু।

বৈঠকের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের ৯৩ শতাংশ ভোটারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “বাংলার মানুষ যেভাবে নির্ভয়ে গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।” সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী, সংবাদমাধ্যম এবং প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলিকেও ধন্যবাদ জানিয়ে এক বিরল সৌজন্যের নজির গড়েন তিনি। তবে সৌজন্যের পাশাপাশি প্রশাসনিক কড়াকড়ির বার্তাও ছিল স্পষ্ট।

সবথেকে বড় চমক ছিল রাজ্যের কয়েক লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, গত কয়েক বছরে নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে থাকায় বহু যোগ্য প্রার্থীর বয়স পেরিয়ে গেছে। তাঁদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে সরকারি চাকরির আবেদনের ঊর্ধ্বসীমা একধাক্কায় ৫ বছর বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। শুভেন্দুর এই ঘোষণায় রাজ্যজুড়ে খুশির হাওয়া বইছে। চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবি পূরণ করে নতুন সরকার বুঝিয়ে দিল, কর্মসংস্থানই তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্বিতীয় বড় ঘোষণাটি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্ছিদ্র করতে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আজ থেকেই শুরু হচ্ছে। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্য মুখ্য সচিব ও ভূমি সচিবকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর কথায়, “দেশের এবং পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতে বিএসএফ-কে সবরকম সহযোগিতা করবে রাজ্য সরকার।”

পাশাপাশি, এদিনই বাংলায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু করার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। দীর্ঘকাল রাজনৈতিক কারণে বাংলার মানুষ যে পরিষেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন, এবার তার অবসান ঘটতে চলেছে। এছাড়াও উজ্জ্বলা যোজনা ও বিশ্বকর্মা যোজনার কয়েক কোটি পড়ে থাকা আবেদন দ্রুত কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে আজ থেকেই রাজ্যে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS) কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক থেকেই শুভেন্দু অধিকারী বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর সরকার কেবল প্রতিশ্রুতির নয়, বরং দ্রুত বাস্তবায়নের পথে হাঁটবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy