কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানে সদ্যজাত হস্তিশাবকের নাম ‘মায়াবিনী’! কেন জুবিন গর্গের গানের নামে নামকরণ করল অসম সরকার?

গত মাসে জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গের আচমকা মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল গোটা অসম। দুর্গাপুজোর আবহেও সেই শোকের ছায়া ছিল স্পষ্ট। এই মুহূর্তে জুবিনের মৃত্যুর তদন্ত চলছে এবং এরই মধ্যে অসম সরকার ভূমিপুত্রকে শ্রদ্ধা জানাতে আরও একটি পদক্ষেপ নিল। অসমের কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানে সদ্যজাত এক হস্তিশাবকের নামকরণ করা হলো জুবিন গর্গের বিখ্যাত গানের নাম অনুযায়ী— ‘মায়াবিনী’।
হস্তিশাবকের নামকরণ ‘মায়াবিনী’ কেন?
গত ৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পশু দিবস উপলক্ষে কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন জন্ম নেওয়া হস্তিশাবকটির মা হলো জঙ্গলের সবচেয়ে আদরের হাতি ‘কুয়ারি’। তার মা হওয়ার খবর শুনে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত ছিলেন সকলে।
এই হস্তিশাবকের নাম ‘মায়াবিনী’ রাখার মাধ্যমে আরও একবার জুবিন গর্গের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর চেষ্টা করল গোটা অসম। ‘মায়াবিনী’ প্রয়াত এই সঙ্গীতশিল্পীর গাওয়া একটি বিখ্যাত গান।
অসমের বনমন্ত্রী চন্দ্রগ্রহণ পাটোয়ারি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে লেখেন, “হস্তি শাবকটির নাম রাখা হয়েছে মায়াবিনী, যার অর্থ নতুন আলোর সঞ্চার।”
জুবিনের মর্মান্তিক মৃত্যু
প্রসঙ্গত, গত মাসে সিঙ্গাপুরের নর্থ ইস্ট ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে গিয়ে স্কুবা ডাইভিং করার সময় চিরকালের জন্য না ফেরার দেশে চলে যান জুবিন। প্রথমে লাইভ জ্যাকেট পরে জলে নামলেও অস্বস্তি হওয়ায় তিনি আবার উঠে এসেছিলেন। পরবর্তী সময়ে লাইভ জ্যাকেট ছাড়াই আবার জলে নামার পর আচমকাই তিনি অচৈতন্য হয়ে পড়েন। সিঙ্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি।
উল্লেখ্য, জুবিন গর্গের শেষ যাত্রায় কয়েক লক্ষ মানুষ উপস্থিত ছিলেন, যা লিমকা বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম তুলেছিল প্রয়াত এই সঙ্গীতশিল্পীর।