দেশের একাধিক মেট্রো শহরে রেলের নেটওয়ার্ক যেভাবে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত, এবার কলকাতাতেও সেই ধাঁচেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কলকাতা স্টেশনকে মেট্রো মানচিত্রের অন্তর্ভুক্ত করার দীর্ঘদিনের দাবি এবার বাস্তবায়নের পথে। মেট্রো রেল সূত্রে খবর, কলকাতা স্টেশন থেকে করুণাময়ী পর্যন্ত একটি নতুন মেট্রো রুট চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে সমীক্ষার কাজ শুরু হচ্ছে। রেল মন্ত্রকের তরফে ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের কারিগরি এবং ট্র্যাফিক সার্ভের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত নতুন এই মেট্রো রুটটি কলকাতা স্টেশন থেকে শুরু হয়ে ক্ষুদিরাম বসু রোড, বাগজোলা খালের ধার ঘেঁষে এবং সল্টলেকের ৬ নম্বর আইল্যান্ড হয়ে সোজা করুণাময়ীতে গিয়ে পৌঁছাবে। করুণাময়ীতে ইতিমধ্যেই মেট্রোর গ্রিন লাইন চালু থাকায়, এই নতুন রুটের ফলে শহরের উত্তর প্রান্তের সঙ্গে পূর্ব কলকাতার যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত সুসংহত হবে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রস্তাবিত রুটের অধিকাংশ অংশই খালের ওপর দিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা অনেকাংশেই কম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সমীক্ষার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৮ লক্ষ টাকা। প্রাথমিক এই সমীক্ষার রিপোর্ট আসার পরেই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এবং রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।
অন্যদিকে, শহরের মেট্রো প্রকল্পের অন্যতম বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত চিংড়িহাটা মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনের কাজ অবশেষে গতি পেয়েছে। গত ১৫ মে থেকে রুবি-সেক্টর ফাইভ রুটের অসম্পূর্ণ অংশের নির্মাণকাজ নতুন উদ্যমে শুরু হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় দু’বছর ধরে চলা আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে এই সাফল্য এসেছে। বাইপাসের যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার কারণে এতদিন এই অংশে কাজ আটকে ছিল। হাইকোর্টের নির্দেশের পর সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং পরবর্তীতে পুলিশের সঙ্গে মেট্রো কর্তৃপক্ষের আলোচনার মাধ্যমে এই জট খুলেছে।
তবে চিংড়িহাটা জট কাটলেও, পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হতে আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে। মেট্রো সূত্রের খবর, চিংড়িহাটা থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত পরিষেবা চালু করতে আরও অন্তত সাত থেকে আট মাস সময় লাগতে পারে। নিউ গড়িয়া থেকে বেলেঘাটা হয়ে সেক্টর ফাইভের সংযোগ স্থাপন করাই এখন রেল কর্তৃপক্ষের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পরিকাঠামোগত এই কাজের গতি বজায় থাকলে শীঘ্রই কলকাতা স্টেশন এবং বৃহত্তর নিউ টাউন-সল্টলেক এলাকা এক নিরবচ্ছিন্ন মেট্রো বলয়ের মধ্যে চলে আসবে, যা শহরের লক্ষ লক্ষ নিত্যযাত্রীর দুর্ভোগ কমাবে।





