পেপার লিক কাণ্ডের পর কড়া নজর কেন্দ্রের! ইসরো থেকে ইনফোসিস—দেশের সবচেয়ে মেধাবী ৬ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বড় সংস্কারের পথে মোদী সরকার

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং সাম্প্রতিক নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে চলা তীব্র প্রতিবাদের রেশ কাটতেই দেশের প্রবেশিকা পরীক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের বড় ঘোষণা করল কেন্দ্র। দেশের সমগ্র প্রবেশিকা পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ত্রুটিমুক্ত ও আধুনিক করে তোলার বিশাল দায়িত্ব অর্পণ করে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ৬ সদস্যের হাই-প্রোফাইল টাস্ক ফোর্স গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই বিশেষ টাস্ক ফোর্সের সভাপতির দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন দেশের অন্যতম বিশিষ্ট প্রযুক্তিবিদ তথা ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকানি। এই প্যানেলে শিক্ষা, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা ও প্রশাসনিক জগতের সেরা প্রতিভাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আগামী দিনে ভারতের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ নতুন দিশা দেখাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কর্তৃক গঠিত এই ৬ সদস্যের বিশেষ টাস্ক ফোর্সে দেশের যে সমস্ত খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বদের রাখা হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে অত্যন্ত সফল এবং অনন্য অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। এই প্যানেলের নেতৃত্বদানকারী নন্দন নিলেকানি ভারতের ডিজিটাল বিপ্লবের অন্যতম প্রধান স্থপতি এবং জনপ্রিয় ‘আধার’ কার্ডের জনক হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তিনি ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (UIDAI)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন। শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে তিনি মর্যাদাপূর্ণ আইআইটি বোম্বে থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
এই টাস্ক ফোর্সে শিক্ষাবিদ ও শীর্ষ গবেষণা ক্ষেত্রের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য রাখা হয়েছে দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি মাদ্রাজ-এর ডিরেক্টর প্রফেসর ভি. কামাকোটিকে। তিনি এর আগে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় গঠিত এআই টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.এসসি এবং পরবর্তীতে আইআইটি মাদ্রাজ থেকে এম.এস ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
এছাড়াও, এই উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে স্থান পেয়েছেন মহাকাশ গবেষণায় ভারতের মুকুটে নতুন পালক যোগ করা ইসরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান ড. এস. সোমনাথ। তিনি ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত সফলভাবে ইসরো এবং মহাকাশ বিভাগের সচিবের দায়িত্ব সামলেছেন। কোল্লামের টিকেএম কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক, বেঙ্গালুরুর আইআইএসসি থেকে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এম.টেক এবং আইআইটি মাদ্রাজ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী ড. সোমনাথ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
প্রশাসনিক ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দিকটি শক্ত হাতে পরিচালনার জন্য কমিটিতে রাখা হয়েছে দেশের অন্যতম দক্ষ ও গতিশীল আইপিএস অফিসার তপন ডেকাকে। তিনি ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB)-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২৬/১১ মুম্বাই হামলাসহ একাধিক স্পর্শকাতর ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৮৮ ব্যাচের এই ইউপিএসসি অফিসার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।
তালিকায় রয়েছে আরও দুই প্রবীণ ও অভিজ্ঞ আইএএস আধিকারিকের নাম। সিবিএসই-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের প্রাক্তন সচিব অনিতা কারওয়াল এই টাস্ক ফোর্সের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তিনি জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) ২০২০ বাস্তবায়নে অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। গুজরাট ক্যাডারের ১৯৮৮ ব্যাচের এই আইএএস কর্মকর্তা লেডি শ্রী রাম কলেজ থেকে অর্থনীতিতে পড়াশোনা করেছেন। পাশাপাশি, ৩৫ বছরেরও বেশি প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লজিস্টিকস বিশেষজ্ঞ তথা বিহারের প্রাক্তন মুখ্য সচিব এবং কয়লা মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন সচিব অমৃত লাল মীনাকেও এই কমিটিতে রাখা হয়েছে। ১৯৮৯ ব্যাচের এই ইউপিএসসি অফিসার জয়পুরের এমএনআইটি (MNIT) থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। দেশের এই শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে খুব শীঘ্রই একটি সুরক্ষিত ও নিখুঁত পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।