রাজ্য রাজনীতির অন্দরে এক নাটকীয় মোড়! কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ইচ্ছাপ্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পদত্যাগ করলেন বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিধাননগর পুরনিগমের কমিশনারের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দিয়ে তিনি সকলকে চমকে দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদত্যাগ বিধাননগরের প্রশাসনিক কাঠামোয় এক বিরাট শূন্যতা তৈরি করল। সূত্রের খবর, ইস্তফাপত্রে ‘ব্যক্তিগত কারণ’-এর কথা উল্লেখ করলেও, এর নেপথ্যে অন্য কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিধাননগরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজিত বসুর গ্রেফতারি থেকে শুরু করে একাধিক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ—গত কয়েক মাস ধরে বিধাননগর পুরনিগমের ভাবমূর্তি বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ঠিক সেই উত্তপ্ত আবহে মেয়রের এই পদত্যাগপুর পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মেয়রের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ফলে পুরসভার দৈনন্দিন কাজ, উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং জরুরি পরিষেবাগুলো বড়সড় বাধার সম্মুখীন হতে পারে।
গতকালই কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন এবং তাতে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্মতি দিয়েছেন বলেও খবর রটেছে। কলকাতা ও বিধাননগর—রাজ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ পুরনিগমের এই ডামাডোল তৃণমূল কংগ্রেসের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচনের ঠিক পরবর্তী এই সময়ে একাধারে দুর্নীতি মামলার চাপ এবং অন্যদিকে পরপর মেয়রদের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত দলকে বড়সড় সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। এখন বিধাননগরের মেয়রের এই ইস্তফার পর রাজ্য সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কাকে ওই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসায়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজ্যবাসী। শহরজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—রাজ্যের পুর-রাজনীতিতে কি বড় কোনো রদবদল ঘটতে চলেছে?





