কলকাতা কর্পোরেশনের ইতিহাসে এই প্রথম! বাংলায় জমা পড়ল বাড়ি তৈরির নকশার আবেদন, অনুমোদনও দিল পুরসভা

কলকাতা কর্পোরেশনের ইতিহাসে এই প্রথমবার বাড়ি তৈরির নকশার আবেদন সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় জমা পড়েছে এবং তা অনুমোদিতও হয়েছে। এই ঐতিহাসিক ঘটনার কথা শুক্রবার প্রকাশ করলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি একটি তিনতলা বাড়ির অনুমোদিত নকশা প্রকাশ করে জানান, এর আগে কলকাতা পুরনিগমের ইতিহাসে এমন ঘটনা আর কখনও ঘটেনি।

মেয়রের কথায়, “এই প্রথম সম্পূর্ণ বাংলায় লেখা বাড়ি তৈরির নকশা সংক্রান্ত একটি আবেদন আমাদের কাছে জমা পড়ল। আমরা সেটি অনুমোদনও করেছি। এই অসাধারণ কাজটি করেছেন স্থপতি ইন্দ্রনীল ঘোষ। আশা করি, আগামী দিনে এমন আবেদন আরও বেশি সংখ্যায় জমা পড়বে।”

স্থপতি ইন্দ্রনীল ঘোষ বলেন, কর্মসূত্রে তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছিলেন এবং দেখেছেন কীভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ তাদের আঞ্চলিক ভাষাকে প্রাধান্য দেয়। তিনি জানান, বাংলা ভাষাকে গুরুত্ব দিতে কী করা যায়, তা তিনি ভাবছিলেন। বন্ধুদের কাছ থেকে জানতে পারেন যে, বাংলায় কখনও এই ধরনের আবেদন জমা পড়েনি। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, বাড়ি তৈরির নকশার ক্ষেত্রে কেবল বাংলা ভাষা ব্যবহার করবেন। তিনি বলেন, এতে কিছুটা অতিরিক্ত পরিশ্রম হলেও এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে ভেবে ভালো লাগছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষীদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে যখন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোচ্চার হয়েছেন, ঠিক সেই সময়েই প্রশাসনিকভাবেও বাংলা ভাষাকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কলকাতা কর্পোরেশন ইতিমধ্যেই সাইনবোর্ডে বাংলা লেখা বাধ্যতামূলক করেছে। পাশাপাশি, পুরসভার অধিবেশনেও বাংলায় প্রশ্ন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলোর পর বাংলায় বাড়ি তৈরির নকশার অনুমোদন দেওয়াটা বাংলা ভাষার প্রতি কর্পোরেশনের গুরুত্ব আরও একবার প্রমাণ করল।

অন্য এক প্রসঙ্গে মেয়র ফিরহাদ হাকিম আবারও জানান যে, পুজোর পর থেকে বাংলা সাইনবোর্ড নিয়ে কর্পোরেশন কড়া অভিযান চালাবে। কোনও দোকানের মালিক যদি এই নির্দেশ অমান্য করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ট্রেড লাইসেন্সও বাতিল করা হতে পারে।