কলকাতার ২ পুজোয় তুঙ্গে বিতর্ক, এক দিকে ভুয়ো পাস, অন্য দিকে ‘অভিযোগ’ তুলে মণ্ডপ বন্ধ করল মহম্মদ আলি পার্ক!

শহরে দুর্গাপুজো মানেই দর্শনার্থীদের ঢল, আর সেই ভিড় সামলাতে বড় মণ্ডপগুলিতে অতিথিদের জন্য বিশেষ পাস দেওয়া হয়। অথচ এই ভিআইপি পাসকে কেন্দ্র করেই এবার বড়সড় প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। একটি অসাধু চক্র ভুয়ো পাস বানিয়ে তা অনলাইনে বিক্রি করছে। অন্যদিকে, এই উৎসবের মরসুমেই পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তুলে মণ্ডপ বন্ধ করে দিলেন মহম্মদ আলি পার্কের পুজো উদ্যোক্তারা।

ভুয়ো পাস বিক্রির প্রতারণা: ৩০০ থেকে ৭০০ টাকায় লেনদেন
গত শুক্রবার রাতে হাতিবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে এক যুবক ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের’ পাস দেখিয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন। আয়োজকদের সন্দেহ হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যায়, তিনি সেই পাসটি ৬০০ টাকায় এক অনলাইন পরিচিতির কাছ থেকে কিনেছেন! অথচ এই পাস সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কেবল আমন্ত্রিতদের জন্য বরাদ্দ করা হয়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই জানা যায়, ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের নাম ভাঁড়িয়ে ভুয়ো পাস ছাপিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি করছে এক চক্র। অনেকেই এই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের অন্যতম কর্তা শাশ্বত বসু জানিয়েছেন, এই প্রতারণা নজরে এসেছে এবং শীঘ্রই সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ জানানো হবে। একাধিক সংস্থা সতর্কতামূলক বিবৃতি জারি করে বলেছে, পুজোর পাস কেনাবেচা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এর সঙ্গে যুক্ত থাকলে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ হবে।

কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ মেলেনি। অভিযোগ এলেই তদন্ত শুরু হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ মহম্মদ আলি পার্ক, বন্ধ মণ্ডপ
ভিআইপি পাস নিয়ে প্রতারণার জালের মধ্যেই বিতর্কে জড়িয়েছে শহরের অন্যতম জনপ্রিয় পুজো মহম্মদ আলি পার্ক। উদ্যোক্তারা অভিযোগ করেছেন, পুলিশের কিছু সিদ্ধান্তের কারণে দর্শনার্থীদের প্রবেশপথে সমস্যা হচ্ছে।

এই অভিযোগ তুলে শনিবার রাতে গোটা মণ্ডপে আলো নিভিয়ে দেন উদ্যোক্তারা এবং দর্শনার্থীদের জন্য পুজো মণ্ডপ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তবে পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁর কথায়, “কোনও রাস্তা বন্ধ করা হয়নি। দর্শনার্থীরা কলেজ স্কোয়ার থেকে এমজি রোড হয়ে সহজেই মহম্মদ আলি পার্কে পৌঁছতে পারেন। পুলিশ কাউকে জোর করে ঘুরিয়ে পাঠাচ্ছে, এ অভিযোগ ভিত্তিহীন।”

ফলস্বরূপ, একদিকে ভুয়ো পাসের জাল, অন্যদিকে মহম্মদ আলি পার্কে মণ্ডপ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে এবারের দুর্গোৎসবের মরসুম আরও সরগরম হয়ে উঠেছে।