কলকাতায় ধরা পড়ল আফগান ‘গুপ্তচর’! ৫ বছর ধরে ভুয়ো পরিচয়ে গা ঢাকা দিয়ে ছিল জামিল খান

কলকাতার বুকে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ভুয়ো পরিচয়ে গা ঢাকা দিয়ে থাকার অভিযোগে এক আফগান নাগরিককে গ্রেফতার করল ভবানীপুর থানার পুলিশ। ধৃতের নাম জামিল খান। তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, তিন মাসের বৈধ ভিসা নিয়ে ভারতে এলেও ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর থেকে সে অবৈধভাবে মহানগরে আস্তানা গেড়েছিল। এই ঘটনায় শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরির চক্র নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২১ সালে তিন মাসের ভিসায় জামিল খান কলকাতায় প্রবেশ করে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও সে দেশে ফিরে না গিয়ে ভবানীপুর এলাকায় বসবাস শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই দীর্ঘ সময়ে বিভিন্ন এজেন্টের সহায়তায় সে জাল নথিপত্র তৈরি করে। যার মধ্যে একটি ভুয়ো ড্রাইভিং লাইসেন্সও রয়েছে। এই জাল নথিগুলোই তাকে কলকাতায় দীর্ঘস্থায়ী হতে সাহায্য করেছিল। সম্প্রতি কলকাতা পুলিশের একটি বিশেষ দল এবং ভবানীপুর থানার পুলিশ তাঁর গতিবিধির ওপর নজরদারি শুরু করে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ধৃতের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, একাধিক মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ডিভাইসগুলোকে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র থেকে জানা গেছে, জামিল খানের কাছ থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে একাধিক এজেন্টের নাম ও যোগাযোগের সূত্র মিলেছে। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য হলো, জামিল খান গত পাঁচ বছরে ঠিক কী কী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল তা উদঘাটন করা। সে কলকাতার বাইরে অন্য কোনো রাজ্যে গিয়েছিল কি না, বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার ছবি বা তথ্য বিদেশে পাচার করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের একাংশের মতে, জামিল খান শুধু অবৈধভাবে ভারতে বসবাসকারী সাধারণ নাগরিক, নাকি তাঁর অন্য কোনো গভীর উদ্দেশ্য ছিল—তা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সে কোনো আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে যুক্ত কি না, বা গুপ্তচরবৃত্তির মতো সংবেদনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। শুক্রবার ধৃতকে আলিপুর আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানাবে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রাখছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও। পুলিশ আশা করছে, ধৃতকে জেরা করলেই ভুয়ো নথি তৈরির চক্র এবং তাঁর আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে।