কলকাতায় আসছে ‘মহারাষ্ট্রের সুর’! শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের জাদুকর মহেশ কালের অনুষ্ঠানের অপেক্ষায় শহর

শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সুরের মূর্ছনায় ভাসতে চলেছে তিলোত্তমা। আগামী ৪ জুলাই কলকাতায় বিশেষ অনুষ্ঠান নিয়ে আসছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী মহেশ কালে। বাঙালির রুচি ও সঙ্গীতের প্রতি গভীর আবেগকে সম্মান জানিয়ে তিনি তাঁর অনুষ্ঠানের ডালা সাজিয়েছেন বিশেষ কিছু চমক দিয়ে।

অনুষ্ঠানে কী কী চমক থাকছে? কলকাতার শ্রোতাদের জন্য তিনি কী উপহার আনছেন? মহেশ কালের কথায়, “মহারাষ্ট্র থেকে যদি কেউ বাংলায় আসেন, তিনি যেমন বাংলার মিষ্টির কথা ভাবেন, আমিও আমার অনুষ্ঠানে কলকাতাবাসীকে উপহার দেব মহারাষ্ট্রের সুরের ভাণ্ডার। অনুষ্ঠানে কিছু অংশ হিন্দিতে সঞ্চালনা করা হবে যাতে সঙ্গীতপ্রেমী দর্শকরা গানের সাথে আরও গভীরভাবে সংযোগ স্থাপন করতে পারেন।” অর্থাৎ, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সুরে কলকাতার মঞ্চে ফুটে উঠবে মহারাষ্ট্রের কৃষ্টি।

কলকাতা নিয়ে আবেগের স্মৃতি: শহরকে ঘিরে নিজের অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে মহেশ কালে জানান, বাঙালিরা অত্যন্ত সঙ্গীতপ্রিয় ও রুচিশীল। এর আগে কলকাতায় এসে তিনি শহরকে যেভাবে দেখেছেন, তা তাঁর স্মৃতিতে অমলিন। শিল্পী বলেন, “কলকাতার মিষ্টি দই আমার ভীষণ প্রিয়। মাঝরাতে হলুদ-কালো ট্যাক্সিতে ঘুরে বেড়ানো, রাস্তার ধারের ভাঁড়ের চা—এই সবকিছুর মধ্যে একটা অদ্ভুত আমেজ আছে। কলকাতা আমাকে সবসময় নিজের বাড়ির মতো অনুভূতি দেয়।”

এআই (AI) ও সঙ্গীত জগত: বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর প্রভাব নিয়ে সঙ্গীত মহলে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে আশাবাদী মহেশ কালে। তিনি মনে করেন, মানুষের সৃজনশীলতার কোনো বিকল্প নেই। “এআই-তো মানুষের দেওয়া নির্দেশেই চলে, নিজের ইচ্ছায় নয়। প্রযুক্তিকে যদি সঠিক কাজে লাগানো যায়, তবে তা সঙ্গীত জগতের উন্নতিই ঘটাবে। নতুন আবিষ্কারের প্রতি আমাদের আস্থা রাখা প্রয়োজন,” মত এই গুণী শিল্পীর।

কলকাতার সঙ্গীতপ্রেমীরা এখন দিন গুনছেন ৪ জুলাইয়ের—যখন মহেশ কালের গলায় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের জাদুতে মেতে উঠবে তিলোত্তমা।