“কর্মরত স্ত্রীকে সংসারে আর্থিক সাহায্য করতে বলা নিষ্ঠুরতা নয়”- জানালো হাই কোর্ট

এবার এক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সামনে এল কলকাতা হাইকোর্টের। বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্ত এক তরুণীর নিষ্ঠুরতার অভিযোগের মামলা খারিজ করে দিয়ে জানিয়েছেন, কোনও কর্মরতা স্ত্রীকে সংসারে আর্থিক সহযোগিতা করতে বলা বা শাশুড়ির অনুরোধে সন্তানকে সময়ে দুধ খাওয়ানো, এগুলি কোনওভাবেই নিষ্ঠুরতা নয়। এই পর্যবেক্ষণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইনজীবী ও পুরুষ অধিকারের পক্ষে সওয়াল করা নাগরিকরা।
এক তরুণী তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে নির্যাতন, পণের জন্য অত্যাচার এবং সন্তানকে মারধরের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু হাইকোর্ট দেখতে পায়, পুলিশের চার্জশিটে এই অভিযোগগুলির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তরুণী অভিযোগ করেছিলেন যে তিনি শারীরিক, মানসিক, মৌখিক ও আর্থিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, কিন্তু নির্দিষ্টভাবে কবে, কোথায় বা কীভাবে এই ঘটনাগুলি ঘটেছে, তা জানাতে পারেননি। মাত্র দুটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথা উল্লেখ করেছিলেন, যা ২০১৭ ও ২০২০ সালের ঘটনা।
আদালত বলেছে, একজন শিক্ষিত ও উপার্জনশীল মহিলা যখন বাড়ির খরচে নিজের অবদান রাখেন, অথবা শাশুড়ির অনুরোধে সন্তানকে খাওয়ান, তখন সেটা ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮-এ ধারার মানদণ্ডে নিষ্ঠুরতা হিসেবে গণ্য হতে পারে না। যৌথভাবে কেনা ফ্ল্যাটের ইএমআই মেটানো বা সন্তানকে বাবার বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়াকেও স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবনের অংশ হিসেবেই ধরা হয়।
বিচারপতি আরও মন্তব্য করেছেন, তরুণী বহু অভিযোগ করলেও কোনো অভিযুক্তের বিরুদ্ধেই নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেননি। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যাওয়াটা অভিযুক্তদের প্রতি অবিচার হবে।
আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেছে যে, ২০১১ সালে স্বেচ্ছায় বিয়ে করার পর ২০২২ সাল পর্যন্ত ওই তরুণী কোনো প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ, থানা বা আদালতে কোনও অভিযোগ করেননি। মামলার নথি এবং পুলিশের কেস ডায়েরি দেখে আদালত নিশ্চিত হয়েছে যে, অভিযোগগুলি বিমূর্ত এবং সেগুলির কোনও সারবত্তা নেই। এমনকী, ওই দম্পতির এক প্রতিবেশী সাক্ষ্য দিতে গিয়ে জানিয়েছেন, তিনি তাঁদের মধ্যে কখনও কোনও ঝগড়া বা আক্রমণ হতে দেখেননি। সব দিক খতিয়ে দেখে হাইকোর্ট তরুণীর আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।