কঙ্গোতে ইবোলার ভয়াবহ থাবা, বুন্দিবুগিও স্ট্রেইন নিয়ে চিন্তিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, কবে মিলবে টিকা?

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো (DRC)-তে ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত। রাষ্ট্রসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেইসাস বৃহস্পতিবার কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসায় পৌঁছে এই মারণ ভাইরাস মোকাবিলায় এক নতুন রণকৌশলের ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত ১৫ মে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ২০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারি পরিসংখ্যানে জানা গিয়েছে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, আক্রান্ত ও মৃতের প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে কিনশাসায় অবতরণের পর শুক্রবারই টেড্রোস মহামারীর মূল কেন্দ্রস্থল ইতুরি প্রদেশে রওনা দিয়েছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছেন, “এই প্রাদুর্ভাব থামানো সম্ভব।” বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা কোনো ধরনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে নয়, কারণ এতে পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয় না। বরং আক্রান্ত এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন ত্রাণ পৌঁছানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ২৪ মে পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, কঙ্গোতে ১০০০-এরও বেশি নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে, যাদের মধ্যে ২০০ জনেরও বেশি প্রাণ হারিয়েছেন। মধ্য আফ্রিকার ১০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার এই দেশে এটি ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব।

এই প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ হলো ইবোলার ‘বুন্দিবুগিও’ (Bundibugyo) স্ট্রেইন। চিন্তার বিষয় হলো, এই বিশেষ ধরনটির বিরুদ্ধে এখনও কোনো কার্যকর টিকা বা চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরি হয়নি। কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় খনিজ-সমৃদ্ধ ইতুরি প্রদেশ গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষে জর্জরিত। গত দেড় বছর ধরে সংঘাতের তীব্রতা বাড়ায় স্বাস্থ্য পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে। এই অস্থিতিশীল পরিবেশে ইবোলা নিয়ন্ত্রণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে আশার কথা শুনিয়েছেন আফ্রিকান ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সংস্থা ‘আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ (CDC)-এর প্রধান জঁ কাসেয়া। তিনি অনলাইন ব্রিফিংয়ে আশ্বস্ত করে বলেছেন, “২০২৬ সালের শেষের মধ্যেই আমরা বুন্দিবুগিও স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা ও ওষুধ হাতে পাওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছি।” কাসেয়া আরও জানান, প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত উভয় স্তরেই বিনিয়োগ করা হচ্ছে যাতে দ্রুত টিকা উৎপাদন সম্ভব হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে ইতুরি প্রদেশের বুনিয়া বিমানবন্দরে ৪.৬ টন জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। পাশাপাশি, ইউনিসেফ (UNICEF) কঙ্গোর জনগণের সহায়তায় ১০০ টন ত্রাণ পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোই এখন স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর প্রধান লক্ষ্য। বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়লেও রাষ্ট্রসংঘ এবং আফ্রিকা সিডিসি-র এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। ইবোলা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ এখন সময়ের দাবি।