অনিচ্ছুক প্রধানমন্ত্রী! ১৭ ভাষার পণ্ডিত থেকে ভারতের অর্থনৈতিক রূপকার: পিভি নরসিমা রাওয়ের অজানা কাহিনী

২৮ জুন, ১৯২১। অন্ধ্রপ্রদেশের করিমনগরে জন্মগ্রহণ করেন ভারতের নবম প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাও। স্বাধীনতা সংগ্রামী, চৌকস আইনজীবী এবং ১৭টি ভাষায় পারদর্শী এই মানুষটি ছিলেন এক বিস্ময়কর প্রতিভা। তিনি যে কখনো দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হতে চেয়েছিলেন, তা কিন্তু নয়। বরং ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে ৬৯ বছর বয়সে তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে গ্রামে ফিরে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
কিন্তু নিয়তির লিখন ছিল ভিন্ন। ১৯৯১ সালের ২১ মে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর কংগ্রেসের সামনে গভীর নেতৃত্ব সংকট দেখা দেয়। সোনিয়া গান্ধী তখন সক্রিয় রাজনীতিতে আসতে অনিচ্ছুক ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে দলের বর্ষীয়ান নেতা হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে নরসিমা রাওয়ের নাম উঠে আসে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও তিনি দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দিল্লির মসনদে বসে তিনি কেবল সরকারই চালাননি, বরং এক সংখ্যালঘু সরকার নিয়ে টানা পাঁচ বছর শাসনকাল পূর্ণ করে নজির গড়েন। শরদ পাওয়ার বা অর্জুন সিংয়ের মতো হেভিওয়েট নেতাদের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তিনি ছিলেন অবিচল। দেশের বৈদেশিক নীতি থেকে শুরু করে অর্থনীতির আমূল সংস্কারে তাঁর অবদান আজ ইতিহাসের অংশ। আইনজীবী ও কৃষি বিশেষজ্ঞ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী—পিভি নরসিমা রাওয়ের এই যাত্রা আজও প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মীর কাছে এক অনন্য শিক্ষা।