ওয়াটগঞ্জ থানায় আচমকা হানা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর! পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের চোখ কপালে তুলে কী করলেন তিনি?

পুলিশ প্রশাসনের ওপর কড়া নজরদারি রাখতে এবার একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবে ওয়াটগঞ্জ থানায় একটি সারপ্রাইজ ভিজিট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব থেকে কোনো রকম পূর্বঘোষণা বা উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তাদের কিছু না জানিয়েই একেবারে আকস্মিকভাবে তিনি থানায় এসে উপস্থিত হন। থানায় পা রেখেই তিনি সোজা চলে যান মহিলা হেল্প ডেস্কে। মহিলা হেল্প ডেস্ক ঠিক কী কায়দায় এবং কতটা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, সে সম্পর্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকের কাছ থেকে খুঁটিনাটি সমস্ত তথ্য জেনে নেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, হেল্প ডেস্কের কাজের স্বচ্ছতা যাচাই করতে তিনি সরাসরি মহিলা হেল্প ডেস্কের রেজিস্টারও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখেন।

ওয়াটগঞ্জ থানায় অবস্থিত ওয়াটগঞ্জ মহিলা থানার সার্বিক কাজকর্ম এবং প্রশাসনিক তৎপরতা সম্পর্কেও বিশদ খোঁজখবর নেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু মৌখিক খোঁজখবর নিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি, থানায় জরুরি ভিত্তিতে মজুত থাকা অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা বা ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম আদতে কতটা কার্যকর রয়েছে এবং সেগুলির এক্সপায়ারি ডেট বা মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ নিয়মিত খতিয়ে দেখা হয় কি না, সে বিষয়েও তিনি কড়া নজর দেন। পরবর্তীতে তিনি নিজে সরেজমিনে দাঁড়িয়ে সেই সমস্ত অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করে দেখেন।

এছাড়াও থানায় কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা ঠিক কীভাবে কাজ পরিচালনা করছেন, সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও এফআইআর কীভাবে নথিভুক্ত করা হয়, ডিউটি অফিসাররা ঠিক কী ধরনের দায়িত্ব পালন করছেন, থানায় মোতায়েন মোট পুলিশকর্মীর সংখ্যা কত এবং বর্তমানে রাউন্ড বা পেট্রোলিংয়ে কতজন কর্মী রয়েছেন—এই সমস্ত স্পর্শকাতর বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশকর্মীদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সবমিলিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলা এই আকস্মিক ও ঝটিকা সফরে ওয়াটগঞ্জ থানার অন্দরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়।