ব্রিটিশ রাজনীতিতে বড় পালাবদল! ২০২৯-এর নির্বাচনে কি ভাগ্য নির্ধারণ করবেন মুসলিম ভোটাররা?

মুসলিম কাউন্সিল অফ ব্রিটেন সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছে যে, আগামী দিনে ব্রিটিশ রাজনীতিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক প্রভাব ও গুরুত্ব আরও অনেক গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। কাউন্সিলের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৯ সালের পরবর্তী সংসদীয় নির্বাচনে যুক্তরাজ্যের প্রায় ৪৯টি গুরুত্বপূর্ণ আসনে মুসলিম ভোটাররা নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠতে পারেন। এই বিশাল রাজনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে ব্রিটিশ সরকারের ১৬ বছর বয়সী নাগরিকদেরও ভোটাধিকার প্রদান সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্তটিকে।

বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্রিটেনের মোট ৬৫০টি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে প্রায় ৩০টিতে মুসলিম ভোটারদের উল্লেখযোগ্য প্রাধান্য রয়েছে। এর মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে তিনটি আসনে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি। এর সঙ্গে নতুন করে আরও ৪৯টি আসন যুক্ত হলে ব্রিটিশ রাজনীতিতে মুসলিম প্রভাবাধীন বা নির্ণায়ক আসনের মোট সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭৯-এ পৌঁছাবে। ২০২১ সালের সর্বশেষ আদমশুমারি বা সেন্সাস রিপোর্ট বলছে যে, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ৩৯ লক্ষেরও বেশি মুসলমান বসবাস করেন, যাঁদের একটি বিরাট অংশ লন্ডন ও ওয়েলসের মতো প্রধান শহরগুলিতে কেন্দ্রীভূত। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এই মোট মুসলিম জনসংখ্যার প্রায় ৪৫ শতাংশেরই বয়স ২৫ বছরের নিচে, যা আগামী দিনে রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে এক বিশাল ভূমিকা পালন করবে। ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে শুধুমাত্র দশ বছরের ব্যবধানে ব্রিটেনে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১২ লক্ষ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩১ সালের মধ্যে মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ এই সম্প্রদায়ভুক্ত হবে।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে মোট ৬৫০টি আসন রয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইতিমধ্যেই প্রায় ২৬টি আসনে ২০ শতাংশের বেশি এবং ৩টি আসনে ৫০ শতাংশের বেশি মুসলিম জনসংখ্যা রয়েছে, যা অতীতে প্রায় ২৯টি আসনে নির্বাচনী ফলাফল পরিবর্তনে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। ঐতিহ্যগতভাবে ব্রিটিশ রাজনীতিতে মুসলিম ভোটাররা প্রধানত লেবার পার্টির সমর্থক হিসেবে পরিচিত এবং বর্তমান ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ২৫ জন মুসলিম এমপি দায়িত্ব পালন করছেন। মুসলিম কাউন্সিল অফ ব্রিটেনের প্রতিবেদন আরও স্পষ্ট করেছে যে, যদি ১৬ বছর বয়সীদের ভোটাধিকার দেওয়ার নিয়মটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে প্রায় ৪৯টি নির্বাচনী এলাকায় মুসলিম ভোটারের সংখ্যা অন্তত ১০,০০০ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। অতীতে দেখা গেছে যে এই নির্দিষ্ট আসনগুলিতে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ১০,০০০ ভোটের কম ছিল, যার অর্থ ২০২৯ সালের নির্বাচনে এই আসনগুলিতে মুসলিম ভোটাররাই জয়-পরাজয়ের চাবিকাঠি হয়ে উঠবেন। এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিটিশ যুবসমাজ বিশেষ করে গাজাপন্থী এবং স্বাধীন প্রার্থীদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে পার্লামেন্টের অন্দরেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যে সরকার গঠনের জন্য জাদুকরী সংখ্যা হলো ৩২৬টি আসন।